বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন






Bangla Sahitya
বার্মুদা রহস্য – পর্ব –  ৮  – সিদ্ধার্থ সিংহ

তখন যুদ্ধের সময়। শত্রুপক্ষের জাহাজকে ঘায়েল করার জন্য সমুদ্রে মাইন পাতা থাকত। তাই অনেকে ভাবলেন, মাইনে ধাক্কা খেয়ে হয়তো জাহাজটা ডুবে গেছে। আবার কেউ ভাবলেন, জার্মান সাবমেরিন টরপেডো মেরে জাহাজটিকে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, জার্মানরা শত্রুপক্ষের কোনও জাহাজকে উড়িয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে তারা তা বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করত।

তা ছাড়া যুদ্ধের পরে জানা গিয়েছিল, যে এলাকা থেকে জাহাজটি উধাও হয়েছিল, সেই জায়গায় জার্মানিদের কোনও মাইন পোতা ছিল না বা তাদের কোনও সাবমেরিনও ওখানে যায়নি। তার থেকেও বড় কথা, মাইনের আঘাতে বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া টরপেডোয় জাহাজটি ধ্বংস হলেও জাহাজের লোকেরা অন্তত জরুরি এস ও এস পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত সময় পেতেন। এবং পাঠাতেনও। 
কিন্তু সাইক্লপস জাহাজের ওয়্যারলেস থেকে তেমন কোনও বার্তা এসে পৌঁছয়নি। জাহাজ ডুবতে থাকলে লাইফবোট চেপে বা লাইফ জ্যাকেট পরে কিংবা অন্য কোনও ভাবে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছিল বলে কোথাও শোনা যায়নি। সেটা শোনা না গেলেও, জাহাজ ধ্বংস হলে তার ভাঙাচোরা কাঠ-টাঠ তো সমুদ্রের বুকে ভাসতে দেখার কথা।

কিন্তু না, ওই জাহাজের এক টুকরো কাঠও কোথাও ভাসতে দেখা যায়নি। তা হলে কি হল তার! ঝড়ের প্রবল টানে কি দিকভ্রান্ত হয়ে দূরে কোথাও চলে গেছে! কিছুতেই আর পথ খুঁজে পাচ্ছে না! কিন্তু তা তো হবার কথা নয়। কারণ, ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন জর্জ ডবলিউ ওরলি একজন অত্যন্ত দক্ষ নাবিক।

আঠাশ বছর ধরে জাহাজ চালাচ্ছেন। সমুদ্রের খুঁটিনাটি তাঁর নখদর্পনে। তা ছাড়া তাঁর সঙ্গে যে তিনশো জন ছিলেন, যতই দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ুক না কেন, তার মধ্যে থেকে কি দু’-একজনও বেঁচে ফিরতেন না! এমনটা আবার হয় নাকি! কেউ বললেন, জাহাজটির খোলে হয়তো ম্যাঙ্গানিজ ভর্তি ছিল।

 সমুদ্রের বড় বড় ঢেউয়ে হয়তো সেগুলো একদিকে সরে গিয়েছিল। যার ফলে টাল সামলাতে না পেরে জাহাজটি উল্টে জলের তলায় চলে গেছে। আস্ত অবস্থায় ডুবেছে দেখে জাহাজটির কোনও ভাঙা অংশ উপরে ভেসে ওঠেনি। মানুষের দেহও ওঠেনি জাহাজের তলায় চাপা পড়ে যাওয়ার বা জাহাজের ঘরের ভিতরে আটকে থাকার জন্য।

 কেউ আবার বললেন, ম্যাঙ্গানিজ থাকার জন্য সম্ভবত কোনও কারণে ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তাই সলিল সমাধী ঘটেছে জাহাজ-সমেত সমস্ত লোকের। লিটারারি ডাইজেস্ট-এর মতো একটি বিখ্যাত পত্রিকা লিখল, সমুদ্রের তলদেশে বাস করা বিশালাকায় প্রাণী স্কুইড হঠাৎ উঠে এসে জাহাজটিকে টেনে সমুদ্রের তলায় নিয়ে গেছে। আরও অনেকেই অনেক কথা বললেল।

তার আগেই শুরু হল মার্কিন নৌবাহিনী অনুসন্ধান। যে পথ দিয়ে জাহাজটি গিয়েছিল, তার আশপাশে যে ছোট ছোট দ্বীপগুলো আছে, সেগুলোর উপকূলেও তন্নতন্ন করে সন্ধান চালানো হল। যদি কোনও সূত্র পাওয়া যায়! কিন্তু না। ওই জাহাজ বা ওই জাহাজের একজন যাত্রীরও কোনও হদিশ পাওয়া গেল না।

পরে চেসাপিক উপসাগরে সমুদ্রের নীচে কয়েকটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে সাইক্লপস জাহাজের কোনও অংশ ছিল কি না কেউ তা হলফ করে বলতে পারেনি।

সাড়ে তিনশো ফুট লম্বা আরও একটি মালবাহী জাহাজ— সানড্রা। সাভানা বন্দর থেকে তিনশো টন কীটনাশক তুলে উনিশশো পঞ্চাশ সালে রওনা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার পুয়ের্তো ক্যাবেলো বন্দরের দিকে। জাহাজে ছিল নাবিক ও যাত্রী-সহ মোট আঠাশ জন। যেতে যেতে এই জাহাজটিও সাইক্লপসের মতো মাঝ সমুদ্র থেকে আচমকা নিখোঁজ হয়ে গেল। খোঁজ খোঁজ খোঁজ। কিন্তু কোত্থাও তাকে পাওয়া গেল না।
পাওয়া গেল না তেরো হাজার টন মাল বওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন জার্মানি জাহাজ অ্যানিটাকেও। উনিশশো তিয়াত্তর সালের একুশ মার্চ ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজ বন্দর থেকে কয়লা বোঝাই করে বত্রিশ জন নাবিক-সহ মালবাহী জাহাজটি জার্মানির উদ্দেশে রওনা দিল। দিল তো দিলই। আর কোনও দিনই কোনও বন্দরে পৌঁছতে পারল না। কারণ, তার আগেই কী করে যেন সে ম্যাজিকের মতো শান্ত সমুদ্রের বুক থেকে বাষ্প হয়ে উবে গেল।

উবে গিয়েছিল পোর্টো নোকাও। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে। পোর্টো নোকা ছিল যাত্রীবাহী ছোট জাহাজ। ফ্লোরিডার ট্যাম্পো থেকে কিউবার খানিক দূরের আইল অব পাইনস আর গ্র্যান্ড কেম্যান আইল পর্যন্ত চলাচল করত। লোকাল বাসের মতো। এ পাশে ও পাশে অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ। ওই সব দ্বীপের যাত্রীরা তাতে করেই যাতায়াত করত। সেই জাহাজের নিয়মিত যাত্রী ছিলেন আইল অব পাইনসের র‍্যাড মিলার।
দ্বীপটি খুব সুন্দর। নৈসর্গিক শোভা অপূর্ব। কিউবার বড়লোকেরা অবসর সময় কাটানোর জন্য সেখানে বাগানবাড়ি বানাতেন। হয়তো প্রকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই ওখানকার লোকেরা ছিলেন একটু নরম প্রকৃতির। একটু শিল্পমনস্ক। কবি, শিল্পী। র‍্যাড মিলারও খুব ভাল ছবি আঁকতেন। আঁকার জন্য মাঝে মাঝেই রং তুলি কানভাস নিয়ে এ দ্বীপে সে দ্বীপে চলে যেতেন।
সে দিনও সকাল সকাল উনি বেরিয়েছেন। আইল অব পাইনের জেটিতে আরও অনেক যাত্রীর সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। কখন পোর্টো নোকা আসবে। না, বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। দূর থেকে পোর্টো নোকাকে আসতে দেখা গেল।
র‍্যাড গুটি গুটি পায়ে একদম জেটির শেষ সীমানায় গিয়ে দাঁড়ালেন। যাতে যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গে উনি উঠতে পারেন। কিন্তু এ কী! উনি হঠাৎ দেখলেন, জাহাজটি যেন ভুস করে জ্বলে উঠল। তার পর দাউ দাউ করে আগুন।
কয়েক মুহূর্তমাত্র। তার পরেই বুঝতে পারলেন, না। উনি ভুল দেখেছেন। ওই তো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে জাহাজটা এগিয়ে আসছে। জাহাজটি জেটিতে ভিড়তেই হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। লোকজনকে নামতে না-দিয়েই হইহই করে সবাই জাহাজে উঠতে লাগলেন।
র‍্যাডও উঠতে যাচ্ছিলেন। তার পর কী মনে হল, তিনি আর উঠলেন না। ভাগ্যিস সে দিন তিনি ওঠেননি। উঠলে, তাঁর যে কী হত কে জানে। কারণ, আইল অব পাইনস থেকে জাহাজটি পাশের যে দ্বীপে প্রথম যাওয়ার কথা, সেটি খুবই কাছে। এ পার থেকেই দেখা যায়। কিন্তু সেখানে পোর্টো নোকা আর কোনও দিনই পৌঁছতে পারেনি। যেতে যেতে মাঝপথ থেকে পোর্টো নোকা যে কী ভাবে ভ্যানিস হয়ে গেল, কেউ বলতে পারল না। যদিও আকাশ তখন পরিষ্কার ছিল। সমুদ্রও ছিল শান্ত ।
পোর্টো নোকা ডুবতেই পারে। কারণ, সে জাহাজের ক্যাপ্টেন কতটা প্রশিক্ষিত ছিল তা কারও জানা নেই। আর যারা আশপাশের দ্বীপের মধ্যেই কেবল চলাচল করে, তারা বড় কোনও সমস্যার মুখে পড়লে ঘাবড়ে গিয়ে এমন কিছু করতেই পারেন, যা জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু জোসুয়া স্নোকাম!

তিনি তো ছিলেন পৃথিবীর খ্যাতনামা নাবিকদের মধ্যে একজন। নোভাস্কসিয়ার ব্রায়ারস আইল্যান্ডে তাঁর জন্ম। তাঁর জন্মস্থানের কথা এই জন্যই বললাম যে, ওই দ্বীপের চারদিকে ছিল সমুদ্রের হাতছানি। দ্বীপবাসীরা ছোটবেলা থেকেই সমুদ্রের চরিত্রের সঙ্গে নিজেদের খুব ভাল ভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারতেন।

ছেলেরা একটু বড় হলেই পেশা হিসেবে বেছে নিত মাছ ধরাকে। উত্তাল সমুদ্রকে তুচ্ছ করে তারা সাগরের মাঝখানে নৌকো নিয়ে চলে যেত মাছ ধরতে। ঝড়জল কিছুকেই তোয়াক্কা করত না। এ ছাড়া এরা নিজেরাই অত্যন্ত ভাল জাহাজ তৈরি করতে পারত। 
স্নোকামের মধ্যে এই দুটো গুনই ছিল। প্রশিক্ষণ না নিয়েও খুব ছোটবেলা থেকেই দুঃসাহসী দক্ষ নাবিক হয়ে উঠেছিল সে। মাত্র ষোলো বছর বয়সেই স্বপ্ন দেখত একা একটি জাহাজে নিয়ে গোটা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার। একটু বড় হতেই একখানা জাহাজ পরিচালনার ভার নিয়ে পদে পদে বিপদ জড়ানো উত্তর আলাস্কা সমুদ্রে পাড়ি জমালেন তিনি। এর পরে সানফ্রানসিসকো থেকে হনুলুলু পর্যন্ত যাতায়াত করা একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন।

চলবে

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *