বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

Bangla Sahitya
বার্মুদা রহস্য  –  পর্ব   – ৭  –   সিদ্ধার্থ সিংহ

এই একই পত্রিকায় ১৯৬৩ সালের চার আগস্ট আর জে ক্যানাডের আরও একটি লেখা থেকে জানা যায়, থিওডোসিয়া প্রতিদিন ডায়েরি লিখতেন। তাতে ধরা পড়েছিল, পেট্রিয়ট জাহাজের রোজকার ঘটনার নানান খুঁটিনাটি। এমনকী তাঁর জীবনের শেষ দিনের ঘটনাও।

ডাকাত পরার পর উনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর জীবন আজকেই শেষ, তাই বোধহয় তিনি সেই ডায়েরির কাগজগুলো ছিঁড়ে একটি বোতলের মধ্যে পুরে, মুখ আটকে সমুদ্রের জলে ফেলে দিয়েছিলেন। এবং সেটা যে তাঁরই লেখা, তার প্রমাণ স্বরূপ তিনি তাতে তাঁর আঙুলের একটি আংটিও ভরে দেন।
সেই বোতল ভাসতে ভাসতে বহু দিন পরে আমেরিকার উপকূলে এসে ঠেকে। থিওডোসিয়ার শেষ দিনলিপি বলে কথা! যে পেয়েছিল, তার কাছ থেকে বিপুল টাকা দিয়ে সেটি কিনে নেন কর্নেল জাসটিন ডেন। তিনিই জানান, থিওডোসিয়া তাতে লিখেছেন— কাল সন্ধ্যা ছ’টা থেকেই হঠাৎ বেশ জোরে বাতাস বইতে শুরু করেছিল। পর দিন ভোর হতে না হতেই প্রবল ঝড়।
জাহাজ রীতিমত দুলতে থাকে। জাহাজটাকে মনে হয় খাতার পাতা ছিঁড়ে বানানো কোনও নৌকো। থিওডোসিয়া দেখছেন, ক্যাপ্টেন নির্দেশ দিচ্ছেন, জাহাজটিকে পূর্ব দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ঝড়ের টানে জাহাজটি দক্ষিণ দিকেই চলে যেতে লাগল।
তার পরেই ডায়েরিতে উনি লিখেছেন, একটু একটু করে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। চারদিকের বরফ গলছে। সে সময় তাঁদের জাহাজ নাকি সবে গালফ স্টিমে পড়েছে। কিউবার দিকে যাচ্ছে। সামনের সমুদ্র একেবারে শান্ত। ভয়ের আর কোনও কারণ নেই। ক্যাপ্টেনও নিশ্চিন্ত। জাহাজের সবাইকে তিনি আশ্বস্থ করলেন। কিন্তু না, সমুদ্রের বিপদ কাটলেও অন্য আর একটি বিপদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। তখন সবেমাত্র ভোর হয়েছে।

থিওডোসিয়া-সহ কয়েক জন যাত্রী ডেকে পায়চারি করছেন। হঠাৎ থিওডোসিয়াই প্রথম দেখতে পেলেন, অনেক দূরে একটি জাহাজ। ক্যাপ্টেনকে বলতেই, ক্যাপ্টেন দূরবীন দিয়ে দেখলেন। আর দেখামাত্র তাঁর মুখ ভয়ে কেমন যেন পাংশু হয়ে গেল। সবাই বুঝতে পারল, সামনে নিশ্চয়ই কোনও বিপদ। ক্যাপ্টেন  বুঝতে পারলেন, জলদস্যুদের জাহাজ খুব কাছে এসে পড়েছে। আর কোনও উপায় নেই। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, জাহাজটায় একটা কালো পতাকা উড়ছে।
তাতে গাঢ় লাল রঙের একটি ‘টি’ অক্ষর লেখা। তার মানে ওটা নৃশংস জলদস্যু থ্যাডিয়াস বনকোটরের জাহাজ! জাহাজে ডাকাত পড়লে যে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা আন্দাজ করেই বোধহয় থিওডোসিয়া তাঁর শেষ দিনলিপিটা লিখে বোতলে ভরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সমুদ্রে।
আরও একটি কাহিনি শোনা যায়। আমেরিকার নিউ ইংল্যান্ড স্টেটের লেখক এডওয়ার্ড রো স্নো-র নেশা ছিল সমুদ্রের প্রবাদ, গালগল্প, উপকথা সংগ্রহ করা। এ কাজের জন্য তিনি প্রায়ই সমুদ্রের ধারের গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন। ঘুরতে ঘুরতেই তিনি একদিন এক বৃদ্ধার ঘরে এক যুবতীর চমৎকার একটা ছবি দেখে অবাক হয়ে যান। কারণ, তাঁর ঘরের যা দশা, তাঁর ঘরে যে ধরনের জিনিসপত্র, তার সঙ্গে যেন একদমই খাপ খাচ্ছে না এই ছবিটি।
তিনি তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই ছবিটি আপনি কোত্থেকে পেয়েছেন? তিনি বলেছিলেন, যৌবনকালে তাঁর এক প্রেমিক তাঁকে এই ছবিটা উপহার হিসেবে দিয়েছিল। সে ছিল ভারী অদ্ভুত চরিত্রের। পরে জানতে পারি, অনেক মেয়ের সঙ্গেই তার মেলামেশা ছিল। সে কী করত, জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলত না। এই সব প্রশ্ন সে এড়িয়ে চলত। এই ছবিটি সে কোথায় পেয়েছে, তার কাছে জানতে চেয়েও আমি সেটা জানতে পারিনি।
পরে ডাক্তারের পাওনা টাকা দিতে না পারায় ওই ছবিটি তিনি ডাক্তারকে দিয়ে দেন। আরও পরে বহু হাত ঘুরতে ঘুরতে শেষে ছবিটি এসে পৌঁছয় নিউইয়র্কের ছবি সংগ্রহকারী হার্বার্ট লি প্যাটের হাতে। তাঁরই উদ্যোগে জানা যায়, ছবিটির শিল্পী— জন ভ্যান্ডারলিন। কিন্তু ছবিটি কার? অনেক দিন ধরে খোঁজখবর চালানোর পরে শেষ পর্যন্ত জানা যায়, প্রতিকৃতিটি আসলে থিওডোসিয়ার বার্ডের।
ছবিটি কার এবং কার আঁকা— সবই জানা গেল, কিন্তু কিছুতেই আর জানা গেল না, শিল্পীর সঙ্গে থিওডোসিয়ার কী ভাবে কোথায় পরিচয় হয়েছিল। আদৌ আলাপ হয়েছিল, নাকি আগে কোথাও কখনও দেখে সুন্দর মুখের জন্য মনের গভীরে তিনি তাঁর ছবি তুলে রেখেছিলেন। পরে তা তিনি রং-তুলিতে ফুটিয়ে তোলেন।
এ সব খবর বিভিন্ন সময়ে নানা সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু জানা যায়নি এমন ঘটনার তালিকাও নিশ্চয়ই আরও অনেক দীর্ঘ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা। কারণ, একই সঙ্গে একই মহিলাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকের পক্ষে খুন করা তো কিছুতেই সম্ভব নয়। ফলে, যাই ঘটে থাকুক, প্রকৃত সত্য কোনটা, তা আর কোনও দিনই জানা যাবে না। আরও অনেক ঘটনার মতো এটাও চিরকাল রহস্যই থেকে যাবে।
যেমন রহস্য থেকে গেছে ওয়াসপ জাহাজকে ঘিরে। ওই রণতরীর ক্যাপ্টেন ছিলেন আমেরিকার নৌবাহিনীর একজন সেরা বীর— জনসন ব্রেকলি। ১৮১১ সালে ইউ এস নেভির এন্টারপ্রাইজ জাহাটির ক্যাপ্টেন পদে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়েস খুবই অল্প। তবু ওই বয়সেই নৌবিভাগে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। একাধিক সমুদ্রে তিনি পাড়ি দিয়ে অনেক তাবড় তাবড় ক্যাপ্টেনকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
ব্রিটেনের সঙ্গে নৌযুদ্ধে বেশ কয়েকটি উন্নত মানের রণতরীকে তিনি ঘায়েল করেছিলেন। ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ-মার্কিন যুদ্ধে ব্রিটেনের যুদ্ধ-জাহাজ রেনডিয়ার মার্কিনিদের একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল। তার সঙ্গে সামনাসামনি লড়াইয়ে নৌবাহিনী বারবার হেরে যাচ্ছিল। এ সময়ে ঊর্ধতন কতৃপক্ষ ব্রেকলিকে ডেকে বলেন, যে ভাবে পারো রেনডিয়ারকে ঘায়েল করো।
নির্দেশ পাওয়ামাত্র ওই জাহাজের তুলনায় অনেক কম শক্তি সম্পন্ন রণতরী ওয়াসপকে নিয়ে উনিশসো চোদ্দো সালের জুন মাসে রনংদেহি হয়ে ব্রেকলি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সমুদ্রে। জাহাজে তখন অফিসার আর সাধারণ নাবিক মিলিয়ে মোট একশো তিয়াত্তর জন লোক। তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন অভিজ্ঞ, সাহসী এবং চৌখস। আর জাহাজে লাগানো ছিল বাইশখানা অত্যাধুনিক কামান।
অবশ্য রেনডিয়ারের তুলনায় কিছুই না। তবু অবাক কাণ্ড, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমেরিকার ঘুম কেড়ে নেওয়া সেই ব্রিটিশ যুদ্ধ-জাহাজ রেনডিয়ারকে ভেঙে তিনি এমন তছনছ করে দিলেন যে, ওই জাহাজের আর নড়ার ক্ষমতাই রইল না।
সারা আমেরিকায় তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ল। লোকের মুখে মুখে তাঁর নাম ঘুরতে লাগল। তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হবে, যখন এমন কথা শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই মাঝসমুদ্রের বুক থেকে ব্রেকলি তাঁর দলবল সমেত ওয়াসপ জাহাজটি-সহ বেমালুম উধাও হয়ে গেলেন। না, কোনও প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটেনি। জাহাজ ডুবির কোনও চিহ্নও নেই। তা হলে কি ব্রিটিশরা তাঁদের রেনডিয়ার ঘায়েলকারীকে এই ভাবে জাহাজ-সমেত অপহরণ করে প্রতিশোধ নিল!
হতে পারে! ইউ এস নেভি তন্নতন্ন করে তল্লাশি শুরু করল। এবং অভাবনীয় ভাবে সেই তল্লাশিতে সমান ভাবে অংশ নিল আমেরিকার শত্রুশিবির গ্রেট ব্রিটেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আজও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর পাওয়াও যাবে না নিশ্চয়ই। কারণ, এর মধ্যেই মাঝখান থেকে পার হয়ে গেছে প্রায় দুশো বছর।
হঠাৎ উবে গিয়েছিল ইউ এস এন সাইক্লপস। জাহাজটির দৈর্ঘ ছিল পাঁচশো বিয়াল্লিশ ফুট। ওজন উনিশ হাজার ছশো টন। এত বড় মালবাহী জাহাজ সচরাচর দেখা যায় না। এটা ছিল মূলত ইউ এস নেভির কয়লাবাহী জাহাজ। এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে কয়লা নিয়ে যেত।
মাঝে মাঝে ম্যাঙ্গানিজও তুলত। উনিশশো আঠেরো সালের চারই মার্চ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে নরফোক বন্দরে যাবার জন্য ওই জাহাজটি বারবাডোজ বন্দর ছাড়ল। দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, বছর কাটতে চলল। কিন্তু সেই জাহাজ আর নরফোক বন্দরে এসে পৌঁছল না।
চলবে ……..

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন


সিদ্ধার্থ সিংহের পরিচিতি – ক্লিক করুন 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *