Rahul Dev Biswas

‘ধনলাল ও রসলাল বচসা এবং একটি মৃত্যু’

লেখা:রাহুল দেব বিশ্বাস।

শোনো,শোনো,

আরে দাঁড়াও না রসলাল,
হরিণের মতো তাড়া খেয়ে ছুটছো দেখি–

বলি,পালে বাঘ পড়লো নাকি?

শুনেছো নাকি কিছু–

গতকাল রাতে তোমার বন্ধু পেচু গঙ্গা প্রাপ্ত হয়েছে নাকি?

 

আহ্ যে ঢঙে বলছো হে,

শুনি,পাচু কি তোমার শত্রু বে,

সে কি তোমারও বন্ধু নয়?

 

না না, তা কি করে হয়!

একই ক্লাসে পড়েছি সেতো কারো অজানা নয়,

কিছু টাকা ধার নিয়েছিলাম মনে নেই সে কবে;

দিতে পারি নাই বলে সারাক্ষণ শুনাতো যারে তারে-

তুমিই বলো, ওকে কি আর বন্ধু ভাবা যায়?

 

শোনো ধনলাল,

তোমার মতো বন্ধু থাকলে শত্রুর কি আর দরকার হয়?

কর্জ করেছো ঢের,ফেরত চাইতে গেলে যত রকম ফের!

 

রসলাল,

তুমি খোঁচা দিয়ে কথা বলছো দেখি-

 

হাসি পেল ধনলাল,

গন্ডারের চামড়ায় নিছক বন্দুকের গুলি ঢোকে নাকি?

 

রসলাল,

তুমি কি তাইলে মরা বাড়ি যাচ্ছ অবশেষে?

কেন, তোমার কি কোন সন্দেহ আছে?
ওমা সেকি! এটাই তো ছিল বাকি!
ঠিক বুঝলাম না ধনলাল,

না পেঁচিয়ে খোলসা করো দেখি।

আমি না, লোকে বলে,
কি যেন এক ঝোঁকে সবাই ও বাড়ি ঢোকে!

আর এখন তো সহজ পথ,

একটু পরে ‘পেচু ডাক্তার’ যাবে শ্মশান ঘাট।

 

দেখো ধনলাল,

তোমার নামটাই শুধু ধনী,মনটা করেছো বিষের খনি!

 

উত্তর পাড়ার মফিজের কান্ড ভুলে গেছো বোধহয়,

গভীর রাতে পুলিশ যখন চুরির মামলায়

ওরে ধরে‌ বাইন্দে নিয়ে যেতে চায়,

এই পাচু সেদিন পুলিশের সামনে আড় হয়ে দাঁড়ায়-

নয়তো ডাক্তারিপড়া ওর ছেলেটার মাথা কাটা যায়;

বড় স্যারের বদান্যতায় মফিজকে ছেড়ে দেয়!

সেদিন থেকে মফিজ আল্লাহর ঘরে সেজদা দিয়ে

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী বনে যায়!

 

নিরুপায় ছিল হরে কেষ্ট বাছাড়,

নদী ভাঙনে যার ভিটে বাড়ী ছারখার!

জোয়ান মেয়ে,বউ,বাচ্ছা নিয়ে কাঁদছিল পথের ধার,

এই পাচুর চেষ্টায় ওদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়

তিন শতক জমি, একখান ঘর।

 

দেখো ধনলাল,

সবকিছুকেই ভাবছো কেন গনিমতের মাল!

 

সিডর’ এর দিন রাত দুপুরে, মেয়েটি আমার বাঁচে কী মরে,

প্রসব বেদনা হচ্ছিল ওর কাল!

সে রাতে এই পাচু ডাক্তার না এলে, মেয়ের চিতা জ্বলত আমার ঘরে।

 

ওরে ধনলাল,

পৃথিবীতে কেউ বাঁচে অনন্তকাল?

হিংসা, বিদ্বেষ দিয়ে জলাঞ্জলি,

এসো,বন্ধ দুয়ার খুলি,

আঁধার ঘরে আলোর বাতি জ্বালি!

 

অশ্রুসিক্ত নয়নে কহে ধনলাল,

ওরে রসলাল’

আমার চোখের পর্দা সরে গেছে আজ ঝরছে অশ্রুজল!

কে জানে কখন, আমারও এসে যায় সমন-

আজ থেকে তাই শুদ্ধ হলো অশুদ্ধ প্রাণমন!

 

ওরে ধনলাল,

জীবন মৃত্যু সবই করুনাময়ের দান

জীবন যাবে, কর্মই যে হবে অনন্ত প্রাণ।

রসলাল,,
তবে আর কেন দেরি, তাড়াতাড়ি চলো ওর বাড়ি-

একসাথে দুজনেই করি

পাচু ডাক্তারের জয় গুনগান।

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *