দেখবে ওখানে ধ্যান করছে কবি — মানিক বৈরাগী

মৃত্যুর গান গাই

এক

নগর নিরব নীল জোছনায় ডাকাত শীতের কামড়
সাদা কুয়াশায় ভিজে সুবেহ সাদিকের কর্পূর সুরভি মেখে
মহুরীর ভাটির টানে, আমিও ভেসে চলি তৃতীয় মৃত্যুর দেশে।

কখনো কাঁদেনি বৃক্ষ পাতা ঝরে গেলে
কখনো ভাবেনি নদী বিগত স্রোতের লাগি
তবুও পলি জমে তলানিতে, চর জাগে বাস্তুহীনেরা স্বপ্ন দেখে।

প্রতিদিনের ঝরাপাতা পলির স্তুপ জমে মনের অতলে
হৃদয়চরে ফুটেছে নীল ক্যাকটাস, স্বপ্ন দেখেনি কেহ
আমি শুধু স্বপ্ন দেখি চতুর্থ মৃত্যুর দেশ।

ফসফরাসের সচল ছুটাছুটি।

দুই

গভির তিমিরে স্বপ্নঘেরা সুন্দর মৃত্যু আমার  অধিকার।তৃষিত যৌবন বহুদিন সঙ্গমে মাতোয়ারা হয়নি।রুপালী নারীর মতোন আফ্রোদিতি অন্তত একবার কাছে এসো,পারো তবে একাই চলে এসো।বৈশাখী খরায় চৌচির মাঠের মতো জল তৃষ্ণায় আছি। অপার ভালোবাসার মনোলোভা আয়োজন সাজিয়ে রেখেছি তোমার জন্যে,এসো।
আমার একলা ঘরে কৃষাণ হাতে সাজিয়ে রেখেছি মেহেদি পাতা,সেগুন পাতায় মোড়া চিড়াগুড়ের খই,রঙ বেরঙের বাহারি ফুলের সমাহার।
জুম থেকে তুলে আনবো বিন্নিধানের চাল,বানাবো কাকন চালের জাও।কত্তো রকমের শাখ সবজি তরিতরকারি শুধু তোমার জন্যে করেছি চাষ।
জানো আমাদের জুমের কালো বিনিচালের গুড়া দিয়ে দু’চোয়ানি বানাই।দু’চুয়ানির সাথে জুমের মরিচ দিয়ে শুটকি ভর্তা আর বন মোরগের দু’পেয়াজার সাথে মধু পূর্ণিমা রাইতে মাচাংঘরের নিচে বসে চোখে চোখ রেখে অপার আনন্দে রাতভর পান করবো।
আমাদের পান পাত্র সাজিয়ে দেবে আজরাইল। তাকে দেখলেই আমার ওয়েটার মনেহয়। আমাদের লৌকিক আজরাইলের কারনে আমরা বসরা কে হারিয়েছি।হারিয়েছি আল আসকা সহ আরো কতো কি।কিন্তু আমি এখনো হারতে পারিনি।
ওপারের আজরাইল আমাকে দেখে সরম পায়,তাই সে আসেনা।তুমি এসো আমরা অপার আনন্দে আকন্ঠ পান করবো। আর ভোর হবেনা,পান করতেই থাকবো।

তিন

ওয়ালাইকুম আস সালাম
আজ আবার কি চাই  জাহাপনা আপনার
যানকবচ করতে চাই।
আজরাইল সাহেব একটু দাঁড়াও
এখনো তার সাথে আমার গল্প শেষ হয়নি।
জি হুজুর গোস্তামি মাপ করবেন  আমার
অন্যত্র তাড়া আছে
আচ্ছা যাও আমি ডাকবো
শুনো পুবের আকাশে সবুজ তারকাখচিত
কাস্তে হাতুড়ি  যেদিন দেখবে
সেদিন আমিও , আমি চাই তুমিও আসবে
সাম্রাজ্যবাদের বিকল্প হয়ে।

চার

মাটিরঘরে  জৈবসার হয় লালিত দেহ,পোকা মাকড়ের খাদ্য বৈর্জে রাসায়নিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় হয়  ফসফরাস।ঘনিভুত  ফসফরাসের বিচ্ছুরণের উদ্বায়ি শিখা কে আমরা  কবর আজাব বলি।

ভৌতিক  বর্ণনা, বয়ানে হাই তোলা জিকির মশগুলে মগজের করিডোরে বিষধর সর্প আসে।সেই সব নরকে আমরা প্রবেশ করি অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে। শব দাহ করি,ছাই হই,হই সলিল সমাধি।নদী জলধির নিজ নিয়মেই প্রবাহমান থাকে। পাপ তাপের বোঝা বহন- বাহনে জল ও জলধারা হারায়নি তার ধর্ম।
জল ও অগ্নির বাস্তবতায় সিন্দুতে শলিল সমাধি ,মাৎস্যরা  খাবে,মাছ খাবে মানুষ।মানুষ পাবে মেধা।

ভার্সুয়াল প্রতিযোগীতায় ক্ষয়ে যায় শুক্রানু।আনবিক পরিক্ষণ নিরিক্ষণে মাৎস্য শুন্য সমুদ্র।তাই
আমি শলিল সমাধি চাই,প্রজনন বাড়ুক, মৎস্য খাদ্যে  সুস্থ থাকুক মানুষ।
মানুষের তরে,মানুষের প্রয়োজনে শলিল সমাধি হোক মোর।
খোদা
মসজিদ মন্দিরে যাইনি তেমন কোনদিন, আত্ম প্রয়োজনে চাইনি কিছু তোমার তরে।আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের প্রয়োজনে এ সামান্য  ফরিয়াদ।

বেহেস্ত দোজক তোমার ইচ্ছার স্বেচ্ছাচারিতা,তোমার বাণীতে বলেছো আমার পরম আত্মা তোমার বিচারাধিন।এখানেই আমার কলব তোমার কাছে বাঁধা। সেই শলিল সমাধিতে আজানের সুর বাহনিয়া হাফসি কবি বেলাল কে ইচ্ছে হলে সাথে দিও।বিপ্লবি আবু জর গিফারির কলবের কলবের নফসে সীল মেরে বলি”মে কুচবি নিহি,নেহি ইমান্দার।

পাঁচ

বস্তুগত ভাবে ওরা প্রাণী মানুষ,অন্য দশ রকম প্রাণীর মতো,তারা জন্মেছে প্রাণ বৈচিত্রতার জন্য
এই প্রণি বৈচিত্রই তোমাকে করেছে কবি।তুমি কবি,অনুভুতি প্রবন স্বত্তাটিই লিখে রাখো কালের খাতায়।

আমি মানুষ প্রাণী,এ কারনে প্রাণ স্বত্তা আলাদা, সেটা টের পায় পৃথিবী ,খোদা।
খোদা কে সুধাই, তোমার পরিক্ষার ফল প্রকাশিত হবে কবে?
ইলহাম আসে ইতারে,বাতাসে বাতাসে,পাতালে আর উর্ধে আচানক শিহরন জাগে তনু মনে,
আমি টের পাই,আরো পরিক্ষণ উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করবে আমাকে। মাঝে মাঝে বিগড়ে যায় মন,উগরে উঠে মন, বিরক্তিকর অন্ধকারে আপন আলোয় জোনাক পোকার অহংকার আসে।

ইলহাম আসে,অহংকার করোনা,পঁচা রক্তের পুজ তুমি,কিটে খাবে তোমায়,কিট বর্জ্যের  জৈব সারে উদ্ভিদ বানাবো তোমায়,দেখোনা গোরস্থানের ফুল ফলের উর্বরতায় কেমন ফুলে ফলে ফেপে উঠে সুরভি।
সেই সুরভিতে মাতোয়ারা হয়ে আসে জোড় সাপ।বিষধর পাইতন সঙ্গমে জড়াবে তোমায়,সঙ্গম টাপে টাপে নীল মণি মাণিক্য
নূরের আলোয় আলোকিত শাহজাদা শাহান শাহ।

ছয়

দ্বৈত দ্বৈততায় দ্বান্দিক যাতনায়,সহজিয়া জীবনের  যৌথতায় সংসারে ভিড়করে প্রযুক্তিকতা।
এখানে বৃষ্টি বারো মাস , তড়িৎ উৎপাত মিছা ঠেকে, জলজটে জলের ত্রাস।মিঠা কড়া জল পানে,ঘোলাটে চোখে কতবার খোদার কাছে নিজেই আত্ম ওফাত করেছি দাবি।

ছাত্র আন্দোলন,বিগত রাজনীতিক মোড়কে মোড়ানো কিছু ছবি ভাস্কর্যের মিনারে গড়েছি নিজের মিনার,কিতাবি আদর্শে কীট মানুষের প্রপঞ্চক বক্তব্যে  শ্রেণী সংগ্রাম,ক্রুসেড, জিহাদে বেড়েছে সংঘাত দেখতে দেখতে”কতো প্রাণ হলো বলিদান”।
তবুও
তেলা পোকা প্রাণ নিয়া টিকে আছে ভাঙ্গা দেহ খানা।কলবে কলবে জিকির গুজরি কাঁদে। শ্যাওলার দখলে গেছে সুফির বয়ান,সুর্যের অতিবেগুনি রুশ্নির বিকিরণে সুবুজাব দেহ কান্ডে শোভাপায় একটি পতকা।
ভাগ ও ভোগের বিভেদে মনুষ্য প্রাণীরা আজ মান্না শালোয়া।প্রাচিন মুণি কয়”ভাত থাকলে জাত থাকে”
উফশী বীজে শ্যামল রমনীর জমিনে সম্পর্কের আবর্তে আঁকে খুনের ত্রাস।কলিকালে কেয়ামত ঘনিবার পুর্বে আমার চিরায়ত মন কাঁদে এবাদতে ওফাত দাও খোদা,না হয় নিজেই করিব
প্রাণপাত।


সাত

বাঙাল প্রাত্যাহিক কাজেই ক্লান্ত হয়,প্রতিবাদ-মিছিল,সংসারের ঝুটঝামেলা,পরিজন স্বজন এসবের জন্য দুনিয়ার  চরম নিকৃষ্টতম ঘৃণিত কাজ টিও মানুষ কে করতে হয়,মানুষের ক্ষুধা লাগে বলে।

তোমাদের -তাদের মতো সব রকমের ক্ষুধা লাগেনা আমার। মাত্র তিন খানা ক্ষুধার যন্ত্রনায় হাপিয়ে উঠছি।নুন্যতম বাঁচার জন্যে দুমুঠো ভাত,থাকার ছোট্ট আবাস,রোগব্যাধির জন্য ঔষধ পত্তর। মনের খোরাকের জন্য,কিছু তামাক।
আপনি তুই তুরা হুল্লোড় করিস ক্ষুধার লোভে, প্রাণের প্রয়োজনে যা পাই তাই খাই আমি।
তোমরা লোভের আকুতিভরা ক্ষুধার কাছে বারংবার বণ্যের মতো মরো আর মারো।তোমাদের ক্ষুধার কাছে দুধঘাসও নিরাপদ নয়,আর আমার হাটায় ঘাসপাতা কষ্ট পায় বলে ঘাসের কাছে ক্ষমা চেয়ে নি।
  হেমন্তের কোন এক বিকেলে ঘাসের সাথে কথা বলতে বলতেই ওরা পরম আদরে আমায় ঘুম পাড়িয়ে দিবে।
  রোজ হাসরে প্রকৃতিই আমার সাক্ষ্য বহন করবে।পাখিরা হাসবে আর গাইবে।
২০চৈত্র১৪২০ বাংলা

আট

আমার মরন হবে নি:সঙ্গ নি:স্তব্দ রুপালি জোসনা খচিত রাতে।পঁচা পুতিগন্ধে মুখরিত বাতাসে।
মোগলদের অরক্ষিত পানশালার পাশে নাছঘরের সাজোয়া কামরায়।ভেজা শেওলার পিচ্ছিল কার্পেটে বুলবুলের ফলিত নৃত্য মুদ্রা মুদ্রণ করছি বিষাক্ত গিরগিটির ছোবল খেতে খেতে।
ওরা খুব সন্তর্পণে বেয়ে ওঠে নাছ সজ্জায় আচকানের ভেতর দিয়ে। তারপর প্রতিটি মুদ্রার তালে তালে ছোবলে ছোবলে ক্রমাগত নীলাভ দেহ এলিয়ে পড়ে শব্দহীন পতনে।
মুখরিত বাতাসে প্রছন্ড জোসনায় হু হু স্বরে  নাসারন্দ্র হয়ে অনায়াসে মগজের
কুটুরিতে ঢুকে অভিমানের শব্দ।আতরের খুসবে তোমাদের মসতিস্কের মৃত অনুভুতি চরম উত্তেজনা ছড়াবে। নৃত্যের উৎসবে শরাবে তোমরা এমন ভাবে মত্তরবে বুঝতেই পারবেনা, নিরব অভিমানে হারিয়ে গিয়েছে কেউ একজন। যখন সেই বাইজি ভুল মুদ্রায় ধপাস করে পড়ে যাবে তখন টনক নড়বে ওস্তাদজী কই।
বাতাস যখন মৌ মৌ করবে আতর লোবানে, মস্তিষ্কের কোষে কোষে চরম উত্তেজনায় খোজবে খোজবে ততক্ষণে বন্ধ হবে কবির শায়েরী।

নয়

যাপন যাতনের যন্ত্রনায় জন্মনেয়া বেদন বৃক্ষ ক্রমাগত বেড়ে ওঠে শাখা কান্ড পত্রপল্লবে বড় হতে থাকে। পত্রপল্লবেরা গাড়ো নীল, নীলে নীলে বৈভব ছড়ায়।কান্ড শাখায় বসে ডাহুক পাখি,গান গায় কোকিল,করুণ সুরে বাঁশি বাজায় রাখালিয়া বাউল।
কোকিলের গান, বাঁশির শুনতে শুনতে মরে যাবো পরজন্মের তরে।

দশ

প্রতি অমাবস্যা পূর্ণিমা রাতে ছদ্মবেশ নেয় সে,আমার দিব্যচোখ ইশারায় তাকে ডাকে। কাছে আসেনা ফিরে যায় বারবার। উঁকিঝুকি মেরে দেখে, ভাবে কি করি করি।দুনিয়ায় তাবৎ  মানুষের ভয় তাকেই।

ফিরে ব্যার্থ মনোরথে আরশে মাল্লায়।অবনত মস্তকে দাঁড়ায় খোদার সামনে। বলে
হ্যা খোদা আমার কাজ বৃক্ষ হত্যা নয়।যার কাছে পাঠাও বারবার সে-তো মানুষ নয়,বৃক্ষ।বৃক্ষের প্রাণ হরণের জ্ঞান কৌশল আমায় শেখাও নি।জানিনা কিভাবে বৃক্ষের যান কবচ করতে হয়।

আবার যাও, যেখানে পাও ঐ বান্দার যান কবচ করে আসো। তোমার যা দায়িত্ব তাই করো
হুকুম তামিলে  এসে দেখে বৃক্ষটি আর নাই কবিতা চত্বরে , ওখানে গান গায় কোকিল,বাঁশি বাজায় হুলুদিয়া পাখি। ইনসান কই।খোজে এদিক সেদিক। দিব্য চোখে আমি তার গতিবিধি লক্ষ্য করি।

আবারো  ফিরে যায় আজরাইল ধীরলয়ে ব্যার্থ মনোরথে
খোদা ওখানে কোন ইনসানের লেশমাত্র নাই।শুধু পাখি দেখি, গানে গানে তোমায় ডাকে। পাখির যান কবচ কিভাবে আমি করি, আমার দায়িত্ব নয়।
হুকুম করে খোদা-

যাও ঐ বৃক্ষ পাখি নদী সাগরের নামে ক্ষমা চাও,সালাম দাও।দেখবে ওখানে ধ্যান করছে কবি।
আসসালামু আলাইকুম কবি,আজ বারই রবিউল আওয়াল,নবীজি খোদার ইচ্ছায় সাড়া দিয়েছেন। আজ এই দিনে আপনাকে মেহমান করে নিয়ে যেতে চাই।খোদার হুকুম তামিলে সাড়াদিন।
ওয়ালাইকুম আসসালাতু আসসালামু আলাইকুম। চলো প্রিয় প্রাণ হরি।

এগারো

আমরা কি হেঁটে চলেছি আলো অন্ধকারের পথে?আলোর তীব্র রশ্মি পারিনা সইতে,চোখে অন্ধকার দেখি,সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ও কি মেনে চলেছি?আমি তো নই সেই রাহবার।
হয়তো  কোন একদিন, শীত বিকেলের কুয়াশা মোড়ানো ধূসর প্রাতে অবশ্যই একটি দীর্ঘশ্বাস  ছেড়ে বলবে,আমরা রুটিন আয়োজন করেছি তার সাথে,তারপর খুব জ্বালাতন করেছি তাঁকে।  পুড়ে পুড়ে স্থায়ী দগদগে ক্ষত দীঘিটি আজ সোনা পুকুর।শল্যবিদ ঔষধ বিশেষজ্ঞ বলে এটি টুকটুকে লাল ক্যান্সার। আমরা যারা তার হন্তারক আদর্শের সৈনিক এ ক্ষত ক্যন্সার নয় সোনায় মোড়ানো হীরকদীপ্তি।

, আমরা পেয়েছি,কবির জন্যে এ রকম চমৎকার অবহেলা খুব জরুরি নয় কি?
এই রাজপথ কবির  সংগ্রাম স্মৃতিতে উজ্জ্বল।  জেলা মহুকুমা ছাড়িয়ে দেশময় কবির নাম জশ জনে জনে। ওনার নাম জানে।পত্রপল্লবে সবুজে আচ্ছাদিত রেইনট্রি কবি করেছে বপন। বৃক্ষের ছায়াশীতল শহীদ মিনারে শুয়ে থাকা ভবঘুরে,উদুম দেহের কুলি-মজুরের একমাত্র কবিই আওয়াজ তুলেছেন।

সেই কুলিরা আজ গাড়ি হাকায়।কিন্তু ওনার স্বভাব খারাপ, এমন এক খাসলত তাঁর বেশি নীতি বাগিস।
যা এই সময়ে ব্যাগ ডেটেড। ফরেস্ট অফিসের উত্তরের কোনে দেবদারু তলে কত ডিএফও, কত জনের শাড়ি খোলেছে,দারোয়ান পাহারা দিয়ে টু পাইস কামিয়েছে তার ইয়াত্তা নেই।

জীবনে চাইলে সে অনেক কিছু করতে পারতো। কতো অর্ধনগ্ন তরুণী মনোলোভা হাসিতে রঙিন জলের পেয়ালা মুখে তুলে দিতে কুন্ঠাবোধ করতো না।না সে ওসবের ধার ধারেনি,চোখ রাঙিয়ে  ঠোঁট বেঁকে কথার ঝাড়িতে উড়িয়ে দেয় স্বহাস্যে।

গলায় এক্কান ভাব তাঁর, ভাত নাই তবুও হিম্মত ছাড়ে নাই। কলি কালে এসব কি চলে?ভাব দেখাইতে দেখাইতে কোনদিন শিরিশ তলে,কোনদিন মসজিদ মার্কেটের ডেয়ালায় অবাক বিশ্ময়ে তাকিয়ে রয় আকাশ পানে। ঝিমুয় বিড়বিড় করে কথা বলে। নামাজ কালামের ধারেকাছেও যেতে দেখলাম না তাঁকে।বই ভর্তি ঝোলায় কোন কোন দিন পেটচেপে ক্ষুধায় কাতরায়।যদি দেখি মাঝেমধ্যে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় শাকভাত মুখে তুলে দি।মহৎ মানুষ লোভ লালসার উর্ধ্বে পরকালে ছোয়াব হলেও হতেপারে।না হলে নাই। কত হাজার টাকা মাগিরা পকেট কাটে আমার, মাপচেয়ে নি খোদার কাছে।

অনেকেই তাঁকে নাস্তিক ডাকে,কিন্তু কোরান হাদিস নখদর্পনে তাঁর, পাক্কা আলেমও তার সাথে বাজিতে হেরে যাবেই। নামজ-কালাম জিকির আজগার করলে মস্ত আওলিয়া হতো, খানেকা শরিফ হতো,হতো বার্ষিক ওরস মাহফিল।পীর বংশের নাতি চাইলেই পৈত্রিক ভাবে শাহজাদা রুপে গদিনিশান হতে পারতো।
প্রাণ নিঃশ্বরণের পরপর-ই স্বজন সাথি রতি মহা রতি স্বস্থির নিশ্বাস ছাড়লো। খেপাটা এবার ক্ষান্ত হয়েছে।হাছা কথা লেখার নামে কতো নামি দামী সম্মানিয়দের পায়জামা আপনা আপনি খোলে গেছে,এবার পায়জামা পাঞ্জাবি রক্ষা পাবে।
তড়িতায়নের গতিতে  মুহুর্তেই রাষ্ট্র  হয়ে গেলো কবি চিরস্থায়ী অক্কা পেয়েছে। চারদিকে ভুখা নাংগা ফকির, মিসকিন, মাস্কান,ভবঘুরে,বেশ্যা বেশ্যার দালাল,কুলি মজুর ভিড় করতে লাগলো কবিতা চত্বরে শব দেহ ঘিরে।টুপটাপ বৃষ্টি ঝরছে অঝোর নয়নে কাঁদছে সবাই।

এলো ধবধবে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পড়া দামি দামি গাড়ি হাকানো নেতারা।কেউ বল্লো দ্রুত সৎকার করো, জানাজা র করো আয়োজন। পত্রপত্রিকায় ছাপা হলো কবির পরলোক গমনের খবর। কতো পত্রিকা কত রকম ভাবে স্টোরি লিখছে ক্ষমতাবান মন্ত্রী এমপির বিরুদ্ধে। কয়েকটি ধর্মান্ধ পত্রিকায় ধর্মীয় কুৎসা রটানো হলো।
যাকে কবি ধ্যান জ্ঞান মেনে জীবন টাই বিলিয়ে দিলো চাওয়া-পাওয়া বিহীন, কবির সেই বুবুও রাষ্ট্রিক সফরে গেছে বিদেশ বিভূঁইয়ে।

পার সপ্তাহে এলো রাষ্ট্রীয় ডাক, ওয়াদা ও সম্মান জানানোর পত্র।কমিশনার মেয়র কে সাথে করে এলো কবির বাসায়।
উচ্ছল উদাসী চোখে খুশির ক্ষতে বল্লো এ সম্মান ও ওয়াদা পুরন পত্র আমি মাথায় নিলুম।বুবু কে আমার সশ্রদ্ধ সালাম কদম বুচি জানাবেন। বুবু কে বলবেন এসব সম্মানের মান আমি রক্ষা করে কবির কবরে এপিটাফ করে রাখবো।

বারো

চির আকাঙ্ক্ষিত প্রাণ হরি বন্ধু  এসো, চলো জোসনা মুখরিত  ঝিরঝির শীতল হাওয়ার সুরভিত দেশে।আলোকোজ্জ্বল চির বসন্তের প্রশান্ত নগরে প্রান্তরে প্রান্তরে ফেস্টুনে লেখা থাকবে কবিতা।
  ফুল পাখি চিরহরিৎ বৃক্ষ মুখরিত রবে কবিতার উৎসবে।
ধুসর জমিনে সবুজ ঘাসে মাহিনের ঘোড়ারা ছুটবে আনন্দ হিল্লোলে
আমি গাইবো গান লালন, রবি ঠাকুরের কবিতা, নজরুলের বিরহ বৃক্ষ হবে সুশোভিত।
প্রাণ হরি বন্ধু , চলো চিরহরীত বনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *