গল্প সম্পর্কে কিছু কথা — ইন্দ্রাণী দও

sahityalok.com
গল্প সম্পর্কে কিছু কথা:::আমাদের সমাজে এমন অনেক পরিবার আছে যারা লোকে কি বলবে,বদনামের ভয়ে অনেক অন্যায় কে মাটি চাপা দিয়ে রাখে ,ফলে অনেক বড় বড় অপরাধি সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় এই ভদ্র মানুষের মাঝে…আর অত্যাচারিত ,নিষ্পাপ কিছু মানুষ,বিশেষত মেয়েরা অনেক সময় নিজেদের ভাগ্যের দোহাই দিয়ে পুরুষের লালসার শিকার হয়েও মুখ বুঝে মেনে নেয় নীরবে  শুধু পরিবারের সন্মানের কথা ভেবে , প্রতিবাদ না করে সে আরোও একটি মেয়ের সর্বনাশের পথ নিশ্চিত করে..এই নিয়েই আমার একটি অণুগল্প রইলো আপনাদের জন্য ৷
 
 
     “প্রশ্ন”

                 
 
নন্দিনীর নিথর দেহের প্রতিটা   নৃশংস আচঁড় যেন স্বরূপাকে  আরো অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ করে তুলেছিল !…স্বরূপার  শুধু  নিজের অজান্তেই মনে পড়ে যায় একটা নিষ্ঠুর কথা ……” এসব কিছু জানাজানি হলে তোর আর বিয়ে হবে ভাবছিস? যা হয়েছে ভুলে যা !!..এই একটা ভুলের জন্য নন্দিনীকে এভাবে চলে যেতে হলো…..৷
 
মান সম্মান কেড়ে  নিল একটা সুন্দর জীবন !সেদিন যদি চৌরাস্তার মোড়ে পাড়ার বখাটে ছেলেগুলো তার সাথে যে অসভ্যতা করেছিল,নোংরামি করেছিল  তা যদি মান সন্মানের কথা না ভেবে,নিজেকে এভাবে গুটিয়ে না রেখে , মায়ের নিষেধ উপেক্ষা করে পুলিশের কাছে সব  স্বীকার করতো   আর ভালো মানুষের মুখোশ পরা  অমানুষ গুলোকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে  দিতো তাহলে নন্দিনী বেঁচে থাকতো !মুখ লুকোনো উচিৎ ছিল সেই ছেলেগুলোর তার নয়!!!!
 
এই কথাটা বুঝতে স্বরূপা অনেকটা দেরি করে ফেলেছে তাই হয়তো শেষ হয়ে গেল একটা নিষ্পাপ মেয়ের জীবন !!…………….৷ স্বরূপা এখন  মাঝে মাঝেই  নিজেকে প্রশ্ন করে  আসলে প্রকৃত দোষী কে??ওই ছেলেগুলো !,আমি নাকি আমাদের এই সমাজ???প্রতিটা  ঘুমহীন রাতে স্বরূপা যেন  স্পষ্ট শুনতে পায় নন্দিনীর চাপা কান্না ,নন্দিনী যেন  স্বরূপা কে চিৎকার করে” প্রশ্ন “করে …”যে  সন্মানের  ভয় একটা জীবন কেড়ে নিতে পারে, সেই রকম ঠুনকো  মান সন্মান,লোক লজ্জা আদৌও কি প্রয়োজন ছিল ??? 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *