Ayush sharna

🥀 শেষ দিন 🥀

সেদিন বায় পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দুই চোখ
স্থির হয়ে গেল একদিকে। কারণ সামনে ছিল বাল্যকালে স্মৃতিবিজড়িত ও যৌবনের বিলাসিতা স্থান বিদ্যালয়। আজ অজান্তেই সেই সব স্মৃতি ঘিরে ধরছে একে একে,শুরুটা যে কোন জায়গা থেকে করব সেটার কূলকিনারা করতে পারছে না,স্মৃতিতে এই স্থানের প্রত্যেকটি জিনিসের একটি নিজস্ব ঘটনা আছে।সময় পাল্টেছে এবং অনেক স্পর্শ পেয়েছে সেই স্থান কিন্তু সে আজও নিজের মধ্যে স্মৃতিগুলোকে জড়িয়ে রেখেছে। আজকে প্রচন্ড ইচ্ছা হলো স্কুল কে আবার নতুন করে দেখার। সামনের দিকে এগিয়ে দেখলাম স্কুলের গেট খোলা ।নির্দ্বিধায় প্রবেশ করলাম ,এবং আমার সামনে পড়ল সেই পুরনো দারোয়ান কমল।সে আমার দিকে তাকিয়ে তার সাদা দাড়ি ভরা মুখটি নিয়ে এক গাল ভরা হাসি দিয়ে বল ,ভেতরে যেতে পারো তবে একটু তাড়াতাড়ি করো।এই বলে বাইরের দিকে চলে গেল। তার এই হাসি আমাকে বিস্মিত করেছিল। কারণ শেষ যেদিন 12 ক্লাস পাস করে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম যখন তখন শেষবারের মতো স্কুলের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে সে আমাকে ভেতরে যেতে দেয় নি।আজ হয়তো সেই যন্ত্রণার কিছুটা লাঘব হল ।আজসে আমতলা টা বাঁধানো সুন্দর পরিষ্কার অবস্থায় পড়ে রয়েছে ।এই আমতলার আমগাছেআমরা আম পারতাম এখানে তার বাধান সানে বসে টুকরো পাথর কুচি দিয়ে কাটাকাটি খেলতাম।এবং স্কুলের পাশে আসা বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে টিফিন টাইমে ঘর বন্ধ করে খেলা। পঞ্চম পিরিয়ডের পর পাঁচিল টপকে পালানো,এবং স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলা ।এরকম আরো কত স্মৃতি এখানে যে জড়িয়ে রয়েছে তা বলে শেষ করতে পারবো। এভাবে চলতে থাকে মাধ্যমিক পর্যন্ত।তারপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।স্কুলে দাদা হিসেবে কর্তৃত্ব ফলানো ,স্কুলের বিভিন্ন কালচারাল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি ।জীবনের সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু ক্লাস ইলেভেনের পর ঘটলো এক অদ্ভুত ঘটনা যা আমাদের স্কুল জীবনকে পুরো পাল্টে রেখে দিল।
আবির্ভাব হলো মহামারী করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা এতটা ভাবে গ্রাস করল যে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল জীবনের যার কোনদিন ও নাম শুনিনি সেই জিনিসটা প্রথম বারের মতো উপভোগ করতে হল লকডাউন ।12 ক্লাসের পরীক্ষা হবে হবে বলে আর পরীক্ষা তো হলোনা এক অদ্ভুত নির্বাচনী পদ্ধতির মাধ্যমে রেজাল্ট তৈরি করা হলো তার কোনটাই ঠিক বলে মনে হয়নি আমার।এরই মাঝে উপস্থিত হয়েছিল সেই স্কুলের শেষ দিন।সেদিন আমার মনে আছে ভালো করে, কারন সেইদিনই আমাদের রেজাল্ট দেওয়া হয়েছিল,আমি আর আমার বাবা গিয়েছিলাম রেজাল্ট আনতে দুঃখের বিষয় হল আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিলনা।পরে আমরা বন্ধুরা মিলে ঠিক করে ওই দিন স্কুলের বাইরে গেটের সামনে আমরা আমাদের স্কুল পোশাকনিজেদের নাম লিখব ।
এবং আমরা সেটা করি কিছু ছবি তুলি একসঙ্গে কারণ এরপরে কে কোথায় যাবে তার কোন ঠিক নেই। আজও ঠিক একইভাবে সে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সেদিনকার অনুভূতিটা আজকে আর নেই।কারণ আজকে তুলনায় সেই দিনের কষ্ট ছিল অতিরিক্ত বেদনাদায়ক।কারণ দশ বছরে এই প্রতিষ্ঠানে আমরা কাটিয়েছি। এত ভাবনার মাঝে হঠাৎ একটা হাত পেছন থেকে চেপে ধরল কাঁধে। পিছন ফিরে দেখি সেই কমল দারোয়ান দাঁড়িয়ে।
সে বলল সময় হয়ে গেছে গেট বন্ধ করার,আমি আর কিছু বললাম না বেরিয়ে আসলাম। তবে কিছু কল্পনা হয়ত করে নিলাম মনে,হয়তো সেদিন আমাদের ভালোর জন্যই আমাদের কে ভেতরে আসতে দেওয়া হয়নি,আমার ভালোর জন্যই হয়তো কমল দারোয়ান সেদিন ঢুকতে দেয়নি। তবে হয়তো সেদিন স্কুলে ঢুকতে দিলে এই যে অনুভূতিটা আমি অনুভব করেছি সেটা হয়ত কোনভাবে অনুভব করতে পারতাম না। তবে সেদিনের পর থেকে যখনই স্কুলের সামনে দিয়ে যাই ভেতর থেকে একটা শিহরণ জাগ্রত হয় যার দমন করার ক্ষমতা আমার নেই।

কলমে ✒️.আয়ুশ শর্মা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *