Ataullah Mahmood

মোঃআতাউল্লাহ আল মাহমূদ

যখন মানুষ যান্ত্রিক জীবনের ঘানি টানতে’’টানতে জীবটাকে রসহীন, নিরানন্দ ও বিষময় মনেকরে, তখন অতীতের রোমান্টিক ও মধুময় স্মৃতিগুলি কল্পনার চোখে সামনে এনে বর্তমান যন্ত্রণাকে ভুলে আরো কিছু কাল বাঁচতে চায়।আমার ক্ষেত্রে ঠিক এমন করেই হয়ত মনেপরে গেল, গত জীবনের কোন এক ———

★ ফেলে আসা দিনগুলি ★
মোঃ আতাউল্লাহ আল মাহমূদ

সেই ১৯৯৯ সাল। পড়ালেখা শেষ করিয়া সরকারী চাকুরীর কয়েক দফা চেষ্টা করিয়া শেষ পর্যন্ত বেসরকারি উন্নয়ন স্বংস্থা ব্র্যাকে প্রোগ্রাম অর্গানাইজার (মানবাধিকার)পদে যোগদান করিয়া বছর খানেক পার করলাম।চাকুরিতে যোগদান করার পরেই বুঝতে পারলাম এই রকম রোমাঞ্চকর চাকুরীই আমার জন্য মানানসই। স্থানটাও ছিল মনোরম। পাহাড়, নদী, ঝর্না,আদিবাসী সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্ধর্যের লীলাভূমি সুসং দুর্গাপুর।যতই কাজ করতাম কোন ক্লান্তি আসত না।আমার কাজ ছিল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মহিলাদেরকে সংগঠিত করে তাদের অধিকার এবং পারিবারিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

অবশ্য এই বিষয়ে প্রতিষ্টান আমাকেও তিন মাস প্রশিক্ষন দিয়ে আনে।তবে এই কার্যক্রমটা ছিল বিদেশি সাহায্য নির্ভর।যাই হোক,আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে বেশ সুনাম অর্জন করেছিলাম।প্রতিষ্টানের মূল কার্যক্রম ছিল ঋন কার্যক্রম। আমাদের কোন টাকা পয়সার হিসাব না থাকায় সবাই আমাকে নিয়ে মশকারা করত, “হাওয়া খাইয়া বেড়াই” কেউ বলত “আজান দিয়া খাই”সবই শুনতাম, কিছু মনে করতাম না।কারন নিজের কাছেই মনে হত কথাগুলো সত্য।কারন পাহাড় দেখছি, নদী দেখছি,ঝর্ণা দেখছি আবার মাস শেষে বেতন পাচ্ছি, আবার বেতনের চেয়ে বেশী পাচ্ছি যাতায়াত ভাতা। শুকিয়ে যাওয়া নদী পায়ে হেঁটে পার হলেও নৌকা ভাতা।এমন আজান দিয়া খাওয়ার লোক আমি একা নই।আরো অন্য প্রোগ্রামের চার জন আছে, উপজাতি মহিলা ও তিন জন বাঙ্গালী পুরুষ।ম্যানেজার মুখলেছ ভাই(এক মাত্র এই প্রতিষ্টানে সকল উর্ধতনকে ভাই বলতে হয়,কোন স্যর বলা যাবে না) আমাকে খুব স্নেহ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন।যাদেরকে ভাই স্নেহ করতেন তাদেরকেই এই হাওয়া খাওয়া প্রোগ্রামে দিতেন।

তবে কোন ঋন প্রোগ্রামের ভাই অসুস্থ হলে বা ছুটিতে গেলে তার কাজটা আমাদেকে করতে হত।এমন ঘটনাটাই বলব এখন।
সেই নিরানব্বই সালের কোন এক প্রচন্ড বর্ষার দিন।চার দিকে চলছে পাহাড়ি মশার উপদ্রবে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। অফিসের কাছেই ছিল বাসা।বাসা থেকে অফিসে আসার পরই শুনতে পেলাম সহকর্মী কাদির ভাইয়ের জ্বর।

ম্যানেজার ভাই আমাকে ডেকে জানতে চাইলেন আজ কোথায় কাজ?আমি বললাম আশেপাশে কোথাও করব ভাবছি।ভাই ভাল করেই জানতেন এই আজান দিয়া খাওয়া আমরা কজন অন্তত এই তিন নম্বর সতর্ক সংকেত ওয়ালা বৃষ্টির দিনে হাজিরা দিয়া বাঁসায় গিয়া ঘুমানো ছাড়া কোন কাজ করব না।তাই ভাই বললেন না আজকে কোন ঘুম হবে না, কাদির সাব অসুস্থ তাই আপানাকে তার প্রক্সি দিতে হবে।আপনি যাবেন ঐ এলাকায় (এলাকার নামটা ভূলে গেছি)।আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম যাব,তবে আমিত ঠিকানা জানিনা।

ভাই বললেন সমস্যা নাই আপনার সাথে লিভা যাবে। লিভা সব চেনে বলেই লিভাকে ডাকলেন।লিভা আসতেই ভাই বললেন কাদির সাব অসুস্থ তাই আপনারা দুজন তার দুটি সংগঠনে যাবেন।প্রথমে আমাকে যেন প্রথম সংগঠনটিতে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় তাও তিনি বলে দিলেন।লিভা প্রথমে তার আরামের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ায় ভ্রু কচকিয়ে বলল কত দূর আর কি বৃষ্টি হচ্ছে——–!


ভাই হালকা ধমক দিয়ে বললেন রেইনকোর্ট নিয়ে দুইজনে বাদাম খেতে খেতে চলে যান।
রিক্সা যোগে দূর্গাপুর থেকে বিরিশিরি তারপর নৌকায় নদী পার হয়ে আবার রিক্সায় ঝান্ঝাইল, তার পর নৌকায় পাঁচ কিলোমিটারের রাস্তা।
রওনা দেওয়ার শুরুতেই সহকর্মীগনের টিপ্পনী কাটা কথা
আমাকেও কেউ বলছে দেইখা শুইনা রাখিস,আবার তাকেও কেউ বলছে ঝড়ঝাপটার সময় শক্ত কইরা ধরিস।কেউ আবার বলছে হাড়াইয়া যাইস না।আমরা শুনেও না শুনার ভান করে সবকিছু গুছাতে লাগলাম আর আঢ় চোখে দেখতে লাগলাম ম্যানেজার ভাই অন্যদের টিপ্পনীকাটা শুনে মিটি মিটি হাসচে। ভাইয়ের চেহারায় একটা স্বস্তির ভাব লক্ষ করলাম যেন উপযোক্ত পাত্রে কন্যা দানকারী পিতার মত।

একটু সমস্যা হলেও রিক্সা পেলাম।শুরুতেই লিভার(পূর্ন নাম লিভা জাম্ভিল)ঘ্যানর ঘ্যানর প্যানর প্যানর শুরু হয়ে গেল, “সালার কাদিরারর বাচ্ছা কাদিইরা তার জ্বর হইবার আর সময় হইল না,এই বৃষ্টির দিনে কেন আমি অত দূর যাব?লিভা ছিল গারো উপজাতি ধর্মে খৃষ্টান। তাদের সাথে সম্পর্ক একটু ঘনিভুত হলেই একে অপরকে তুই বলে সম্মোধন করে।তাই ঘ্যানর ঘ্যানরের স্বরেই আমাকে বলল তুই নিশ্চই ম্যানেজার ভাইকে বলছস আমাকে সাথে দিতে।আমি অস্বিকার করে বললাম আমি যদি আমার ইচ্ছা মত আনতাম তবে তরে কেন আমি রুবী হাচ্ছাকে আনতাম।

লিভা আবার তর্কের স্বরে বলল আরে অপদার্থ রুবী কি চেনে যে তাকে আনবি?আবশ্য ম্যানেজার ভাই একবার বলেছিল সাথে কাকে নিতে চান?সাথে সাথে আবার ভাই বলল লিভাই চেনে ভাল।লিভার কাজ ছিল প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে জনপ্রতিনিধিগনের সাথে গিয়ে দুস্ত মহিলাদের চাল কিংবা গম দেওয়ার কার্ড করে দেওয়া এবং তাদের সংগঠিত করা।সেই সুবাদেই তার সকল এলাকা নখদর্পনে।

তার পর যাত্রা শুরু,কিন্তু ঘ্যানর ঘ্যানরের মাত্রা বেড়ে বগর বগর শুরু হল কারন যখন বললাম যে ‘আমি ইচ্ছা করে আনলে রুবীকে আনতাম’ এই কথাটা তার ইগোতে লেগেছে। তাই রুবি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন রুবীকে কেন আনতাম?সে শুনেছে আমি নাকি রুবীকে বিয়ে করতে চাই, এইকথা সত্য কিনা?আমি বললাম সত্য।তখন সে বলল তুই খৃষ্টান হবি? আমি বললাম না রুবীকে মুসলমান বানাব।

সে বলল রুবি বলেছে আমি খৃষ্টান না হলে আর যেন না আগাই।আমি অবস্য আমার ধর্মে আর তোমার ধর্মে তুমি শর্তে রাজি ছিলাম, কিন্তু রুবী তাতে রাজি হয় নাই।তার অনেক কারনের মধ্যে একটি হল সে ধর্মান্তরিত হলে পিতার সকল সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে।

যাই হোক এই সকল আলাপ চারিতার মধ্য দিয়া চলতে লাগলাম।পথে বাজার থেকে বাদাম এবং সিগারেট কিনে নিলাম, কারন তিন বার রিক্সা বদল করে তিনটি ফেরি পার হয়ে তার পর নৌকায় উঠতে হবে।

সিগারেট কিনা দেখিয়া একটু ভগর ভগর করলে আমি বললাম তোর কপালে ডাবাখুর জামাই জুটবে। আমার অভিষাপ যে কাজে লেগেছে তা অনেক পরে শুনতে পেয়েছি, কারন তার বিয়ে হয়েছে আমাদের এক হিন্দু সহ কর্মী বিপ্লব ভৌমিকের সাথে।সে সবই খায়।লিভা এখন হিন্দু।

এমন করে রিক্সার পালা শেষ করে নৌকার সন্ধান করতে লাগলাম।পেয়েও গেলাম। নৌকার মাঝি লিভাকে দেখিয়া চিনতে পারিয়া কোন দর দাম করিবার সুযোগ না দিয়াই নৌকায় উঠার আহ্বান জানাতে লাগিল।আমরা সময় নষ্ট না করে উঠে বসলাম।কিছুক্ষন পর পর কখনো হালকা কখনো ভাড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল তাই কেহই রেইনকোট খুললাম না।

আবার কখনো আকাশ কাঁপানো বজ্রপাতের মধ্য দিয়াই চলতে লাগলাম।আবার কখনো ধমকা বাতাসে নৌকাকে কাত করিয়া দিলে পাহাড়ি কন্যার মধ্যে কোন ভয়ের ছাপ আমি না দেখিলেও সে আমার মধ্যে ভয়ের ছাপ টের পাইয়া জিগ্যেস করল “কিরে অপদার্থ ভয় পাস”আমি হ্যা বা না কিছু না বলিতেই মাঝি অভয় দিল, সাঁতার না জানলেও সমস্যা নাই এই গুলো বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানের জমি, ডুববেননা স্যার।

আমি আমার ব্যাগ থেকে আমার অখাদ্য সামগ্রী বের করে এক খানা মাঝিকে দিলে লিভা তার ব্যাগ থেকে বের করে বাদাম দিল আমি তাও মাঝিকে দিলাম।একটু দূরে সাপলার ডেপ দেখিতেপাইয়া মাঝিকে ইশারা করতেই মাঝির সহায়তায় কয়েকটা ডেপ তুলে আমাকে দিল।ততক্ষনে বুঝতে পারলাম লিভার সকল মানঅভিমান শেষ হয়েছে।তাই,অনুনয়ের সুরে বললাম একটা গান হলে কেমন হয়?
লিভা একটু ভেবে চিন্তে শুরু করে দিল “ও পদ্মার ঢেউ রে

এক ঘন্টা নৌকায় থাকার পর আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছলাম।লিভা আমাকে আমার মিটিং করার স্থানে নিয়ে কয়েকজন মহিলাকে ডেকে তাদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে এবং আমাকে যেন সবাই সহযোগিতা করে এই সকল কথা বলে এবং আমাকেও সতর্কতার সাথে টাকা গুনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পাশের গ্রামে যায়।

তার পর শুরু হয় ডাকা ডাকি, কেউ ডাকছে এই দিকে কেউ ডাকছে ঐ দিকে,কেউ ডাকছে “নয়া স্যার আইছে চাড়াইয়া আইয়া ফর।কেউ বা ডাকছে, “চুট্টু একটা স্যার আইছে টেহা লইয়া তারাতারি আয়।”
তার পর শুরু হল সংক্ষিপ্ত আলোচনা।চল্লিশ জন সদস্যের মধ্যে বৃষ্টির কারনে পঁচিশ জনের মত উপস্থিতি।

বাঁকিদেরকে ডাকাডাকি।উপস্থিত মহিলাগনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে।এর মধ্যে এক জন আর একজনকে বলে “জিগা স্যার বিয়া করছে নাকি”।কেউ জিগাইবার আগেই আমি না,সুচক জবাব দিয়া দিলাম।
কথা বলছি কাজ করছি।ভেতরে একটা ভয় টাকার হিসাব ভুল হলে জরিমানা আমাকেই দিতে হবে।ঘন্টা দেড় ঘন্টায় কাজ প্রায় শেষ, শুধু একজন মাত্র মহিলার বাড়ি দুরে থাকায় আসতে দেড়ি হওয়ায় তার টাকাটা সভানেত্রী নিজ তহ্বিল থেকে দিয়ে এই মহিলাকে একরাশ গালাগালি করতে করতে একটা আধা ভাঙ্গা ছাতা নিয়া এই মহিলার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
আমি শুধু তার ভাঙ্গা ঘরের বাড়ান্দায় ছটের বিছানার উপর একলা বসে টাকার হিসাব মিলাচ্ছি।

হিসেব মিলে গেছে, প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা।বিভিন্ন ধরনের নোট আলাদা আলাদা ভাবে চটের উপর সাজিয়ে রেখেছি।কোন নোট কতগুলো তাও আবার কাগজে লিখছি।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে টাকা বাঁধার জন্য যে রাবার আনতে হয় এই রাবার আমার সাথে নেই।তাই সব কিছু যেন এলোমেলো লাগছে।এমনিতেই পেট ক্ষুধায় চুঁচুঁ করছে তাই মেজাজটা খিট খিটে তাই টাকা বাঁধার জন্য বিছানো চট থেকে সুতা খুলতে শুরু করলাম।

চারদিকে বৃষ্টির কারনে ঘোট ঘোটে অন্ধকার,চারদিকে সুউচ্চ বাঁশের বাগান,পার্শে একটা মাত্র পাটশোলার বেড়ায় টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর।আমি একলা এই ঘরের বাড়ান্দায় বসে হাজার চল্লিশেক টাকা গোছানো নিয়ে চিন্তায় আছি, আর অপেক্ষায় আছি কখন লিভা এসে বলবে “কিরে অপদার্থ এখনো শেষ হয় নাই?”এখানে বলে রাখি আমাদের ম্যানেজার ভাই আমাদেরকে আদর করে অপদার্থ বলে গালী দিতেন।তাই একে অপরকে অপদার্থ বলে সম্মোধন করলে কেউ কিছু মনে করতামনা।আবার ভয়ও পাচ্ছি এই নির্জনতার মাঝে হঠাৎ যদি কোন ছিনতাইকারি এসে সবটাকা নিয়ে দৌড়দেয়?

এই সব চিন্ত ভাবনার মাঝে হঠাৎ করে কল্পনাতীত কিছু গঠিয়া গেল।
এই নির্জন গৃহ হইতে দরজা খুলিয়া কে যেন আসিয়া আমার সামনে কি যেন রাখিয়া আবার দরজা বন্ধ করিয়া দিল।চাহিয়া দেখিলাম আমার ছয় পদের টাকার জন্য ছয়টি মাথার চুল বাঁধার রাবার, যার মধ্যে চারটিই ব্যবহার করা।বুঝিতে বাঁকি রইলনা এই নির্জন গৃহের ভিতর থেকে কেউ একজন আমাকে সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমার সমস্যাবলী বুঝতে পেরে তার সাধ্যমত সমাধানের চেষ্টা করছে।ইতি পূর্বে হয়তবা, দূ,একটা কস,মস শব্দ শুনেছি কিন্তু ভয়, ব্যস্ততা ও বিরক্তির কারনে সেই দিকে খেয়াল করার মত মানসিকতাই হয় নাই।তবে ধারনা করতে বাঁকি রইলনা যে সে একটা চৌদ্দ বা পনেরো বছরের মেয়ে।

তার দেওয়া আমার জন্য মূল্যবান উপহার গুলি দ্রুত সদ্ব্যবহার করিয়া তার উঠান হইতে বাহির হইয়া একটা বিরি জ্বালাইয়া লিভার জন্য অপেক্ষা করিব, এমন সময় আবার দরজা খুলিয়া অর্ধেকটা পানের উপর এক টুকরা কাঁচা সুপারি, একটু তামাকপাতা, অঙ্গুলির মাথায় একটু চুন নিয়া সামনে ধরিল।আমি আনন্দ চিত্তে গ্রহনপূর্বক অপলক দৃষ্টিতে মিনিট দূ,এক আপাদমস্তক পরখ করিলাম।

এ যে বনফুল,এ যে বন্কিম চন্দ্রের সকুন্তলা, এ যে রবিন্দ্রনাথের মৃন্ময়ী, এই ভাঙ্গা ঘরে যে এই ফুল খুবই বেমানান। গায়ে তার অল্পদামের কাপড়ের রঙ্গিন জামা, মাথার ক্যাশ সুবিন্যস্ত ভাবে নারিকেল তেল দিয়ে আঁচড়ানোয় আমার নাকে খাঁটি নারিকেল তেলের গন্ধ আসছে।তার আগেও আমাকে দেওয়া রাবারগুলোতে এই গন্ধ পেয়েছিলাম।

আমি শুধু জিগ্যেস করলাম “কি নাম তোমার?উত্তর পেলাম “আর এক দিন আসলে বলব” এই বলেই সে আবার গৃহে প্রবেশ করিল।
এমন সময় লিভা আসিয়া বলল”অপদার্থ শেষ হইল?

তবে চল,কোন সমস্যা হয় নাইতো? না হয় নাই বলিয়া রওনা দিলাম।
যথা নিয়মে লিভা তার এক পরিচিত মহিলার সহায়তায় নৌকা যোগার করিলে তাতে চড়িয়া বসিলাম।ঝর বৃষ্টি একটু কম থাকলেও আকাশ অন্ধকার।পেটের ক্ষিদায় কোন গান গাওয়ারর প্রস্তাব দিলাম না। আমার কথা কম বলার কি কারন জানতে চাইলে লিভাকে বললাম ক্ষিদা।সে আমাকে দুইটা ডেপ দিয়ে বলল ঝান্জাইল গিয়ে ভাত খাওয়াবে।ভাত খেলাম,আবার রিক্সায় চড়লাম,দুর্গাপুর পৌঁছলাম।

পরদিন থেকে আবার পূর্বের রুটিন মাফিক কাজে জড়িয়ে গেলাম।
কিন্তু ক্ষনিকের জন্য আমার মনের মধ্যে কি একটা কঠিন ঝড় বয়ে গেল তা ইতি পূর্বে কারো কাছে বলিনি,বা বলা যায় না।এক বার ভাবছিলাম কিছু নুতন চুল বাঁধার রাবার, সাথে আরো কিছু গিফট কিনে কাদির ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিব।পরে ভাবলাম এতে বদনাম হবে।সহকর্মীরাই বলবে সংগঠনে গিয়ে সদস্যের মেয়ের দিকে বদ নজর দেই।

আর ইচ্ছে করলেও কোন কারণ ছাড়া বলা যায় না। যেই জায়গায় যাব তখন, প্রশ্ন উঠবে কেন যেতে চাই?এমন করে করে এক সময় সব ভুলে গেলেও আজ সতেরো বছর পর কেন যানি মনে হচ্ছে সেই দিন সব লাজ লজ্জা ভুলে অন্তত তার প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসাবে কিছু উপহার সামগ্রী পাঠানো উচিৎ ছিল।

কারো সাথে শেয়ার করলে করলে অন্তত নামটা,তো জানতে পারতাম?কত টাকাই তো কত ভাবে খরচ করেছি জীবনে।

এত সতর্ক থেকেই কি সমালোচনা থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছি?
২৫/৯/২০১৮ইং

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *