সোনার হার // যাকারিয়া আহমদ

 zakaria ahmed
 
৫ লাখ টাকা মোহর হলেও জেসি স্বামী পক্ষ থেকে মোহরানা হিসেবে একলোলার একটি সোনার হার পেয়েছে। শাড়ি-কাপড় আর যা যা পেয়েছে তা সবসময় ব্যবহার করলেও বাইরে না গেলে হারটি আলমিরায়-ই থাকে। চমৎকার হারটি রাদন বাবুর হাতে তৈরি। দশগেরাম খোঁজেও রাদন বাবুর মতো একজন স্বর্ণাকার পাওয়া দুষ্কর।
 
রাদন বাবু হারটি আনার সময় বলিছেন “নেন দাদা ভাই, জীবনে কত হার তৈরি করেছি তার হিসেব দিতে না পারলেও এই হারটির কথা দশজনের কাছে গল্প করতে করতে বলতে পারব।” কারণ জানতে চাইলে রাদন বাবু বলে ওঠলেন “কারণ টারন কিছু নায়, এই হারটি তৈরি করতে এতো সময় ও মেধা খরচ করেছি, যাক-গে কাজ তো চমৎকার হয়েছে কি কন দাদা ভাই?” রাদন বাবুর এসব কথা শোনে নাদেরের কেমন কেমন লাগল।
 
তবুও হো চমৎকার হয়েছে বলে নাদের সোনার টাকা আদায় করে বাড়ির দিকে রওয়ানা করলেন। কিছুদূর যেতে না যেতে মনে হল রাদন বাবু এতো প্রশংসা করলে কীসের ওপর, হারটি একবার খোলে দেখি। পকেটে সাবধানে হাত দিলেন এবং হারটি বের করলেন। বক্স খোলে হারটি নেড়েছেড়ে চাইলেন। দেখলেন ঠিকই রাদন বাবুর কথা। এতো চমৎকারভাবে কাজ করেছে তার প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে নিজে কেন তাকে ধন্যবাদটুকু দিলেন না এজন্য নিজেকে তিরষ্কার করলেন নাদের।
 
নাদেরের পাঁচ ছেলে। বেলিকে এনেছেন বড় ছেলে রাফি’র জন্য। রাফি বড় হওয়ায় পাঁচ কাজে তার সময় দিতে হয়। অন্য চার ভাই লেখা-পড়া নিয়ে ব্যস্ত। তারা জানে না পরিবার কীভাবে চলে। তারা জানে শুধু বাবার দোকান আছে এদিয়ে সব চলে। আয় হলে যেমন দোকান ব্যয় হলেও তেমন দোকান থেকেই হয়। রাফির বয়স আর দোকানের বয়স প্রায় কাছাকাছি। বছর দেড়েক বেশকম হবে। দোকানের বয়স পঁয়তাল্লিশ। আর রাফির বয়স তেতাল্লিশের একটু বেশি।
 
নাদেরের ধনসম্পদ থাকলেও খুবএকটা বুঝাতে দেন না। হিসাবি মানুষ। স্বার্থ দেখেই কাজ করেন। স্বার্থ নেই নাদের নেই। ক্ষেতের ধান দিয়েই অনেকটা এগিয়ে যান। সারাবছর খেয়েদেয়ে চারপাঁচ ট্রাক বিক্রি করতে পারেন। ক্ষেতের পেছনে রাফি-ই বেশি সময় দেন। সকালে ক্ষেতের কাজে আর বিকেলে দোকানে সময় দিয়েই রাফি’র এ বয়স হল।
 
পাড়ার লোকের চেঁচামেচিতে রাফি’র নামে ঘরে বিয়ে কথাবার্তা শুরু হল। পাড়ার লোকের চেঁচামেচির কারণ এই নয় যে রাফি দশ ঘরে যায় আর মাইয়্যাগুলোর দিকে ড্যাবড্যাবিয়ে চায়। একটাই কারণ তার বয়সের কেউ নেই এই পাড়ায় বিয়ের বাকি বরং তার অনেক ছোট যারা তাদের সঙ্গে ছয় বছরের ছেলেমেয়ে। গেরামে কারও বিয়ে লাগলে রাফি’র নামে গল্প বসে। কারণ রাফি-ই একমাত্র উত্তম পুরুষ যার গায়ে বিয়ের পানি না লাগার-ই বেশি সম্ভাবনা গেরামের মানুষের ধারনা।
 
নাদের দোকান বন্ধ করে আসতে আসতে আজ দেরি হয়ে গেল। রাত তখন বারোটা নাদের এসে বাড়ি ওঠলেন। রাফি’র মা সেলিনাকে ডাকতে ডাকতে দোয়ার খোলছেন না। বৃদ্ধামানুষের ঘুম এলে ভাঙতে সময় লাগে। হঠাৎ রাফি’র কানে বাবার ডাক আটকালে খুলে দেয় দোয়ার। ক্লান্ত শরীরে নাদের সেলিনার কাছে বসে ডাকেন। ততমতিয়ে ওঠেন সেলিনা। কখন এলেন দোয়ার কীভাবে খুললেন জিজ্ঞেস করেন স্বামীকে। নাদের তার উত্তর না দিয়ে বলেন ওঠ, হাত মুখ ধুয়ে আস। আজকে তোমার একটা সুখসংবাদ আছে। তাড়াতাড়ি কর, রাত অনেক হয়েগেছে। সেলিনা হাতমুখ ধুতে গেলেন, নাদেরও বেরুলেন প্রস্রাব করবার জন্য।
 
 
বুড়ো মানুষের প্রস্রাব বারবার করতে হয়। ফ্রেস হয়ে দুই’য়ে রান্না ঘরে গেলেন। খাবার দিতে দিতে সেলিনা জিজ্ঞেস করেন নাদেরকে কী সুখসংবাদ শোনালেন না তো? নাদের জেসির বাবার সঙ্গে দোকানে বসে বসে যেসব কথা বলেছেন সবগুলো গড়গড় করে একনাগাড়ে বলে গেলেন। আর সেলিনা স্বামীর কাছে বসে গ্লাসে পানি ঢেলে দিতে দিতে কানভরে শোনেই যাচ্ছেন। কথা বলছেন না। কীরে কোনো কথা বলছ না কেন? সেলিনাকে জিজ্ঞেস করেন নাদের। কথা বলছি না এজন্য যে আগে আপনার কথা শুনি, সারা না শোনে কথা বললে আপনি রেগে যেতে পারেন এজন্য। আর আপনি বললেন না রাত বেশি হয়েগেছে। হেহ হেহ করে হেসে ওঠলেন নাদের। পাগলি আজকেও রাগব। না না আজকে রাতেই আমাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। কাল দুপুরে জেসির বাবা আসবে দোকানে আমাদের সিদ্ধান্ত জানবার জন্য। এদের বাড়ি কই, কী করে কন্যার বাপ? ভাই-বোন কয়টা? লেখা-পড়া কতটুকু? এমন অনেক প্রশ্ন করেন সেলিনা তার স্বামীকে।
 
লেখা-পড়া আছে। জাতবংশ ভালো। ভাই-বোন বা সম্পদ দিয়ে আমি কী করব বললেন নাদের। আমার যেটুকু আছে দশপুরুষে খেয়ে শেষ করতে পারবে না। সেলিনার আর কথাই নেই। নাদের চোখ তুলে দেখলে সেলিনা চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কী করার আছে। তিনি বিছানা ঠিকটাক করলেন। বসে সিগারেটে আগুন দিতেই মসজিদের মিনারে বেজে ওঠল আল্লাহু আকবারের ধ্বনি। “এই ওঠ। এভাবে ঘুমালে হবে, নামায পড়বি না” বলতে বলতে নাদের অযু করে সালাত আদায় করে নিলেন তবু সেলিনার ঘুম ভাঙল না। এইভাকে ঘুমালে বড় কোনো ইক্সিডেন্ট ঘটে যেতে পারে ভেবে নাদের সেলিসাকে নাড়িয়ে তুললেন। ওঠলেন। অযু করে কোনোরকম চার রাকাত নামায আদায় করলেন ঠিকই কিন্তু বিছানায় যেতে পারলেন না। নামাযের চৌকিতেই ঘুমিয়ে গেলেন। নাদের আর কিছুই বলতে পারছেন না কে বিছানায় ঘুমাল আর কে নামাযের চৌকিতে।
 
ভরদুপুর। পাহাড়পুরের আহমদ দোয়ারে হাজির। এসে ডাকছেন “বেয়াই বাড়িত নি, এখনও ঘুম নি, হায় আল্লাহ! আমার বেয়াই বাড়ি তো দেখি লন্ডনিবাড়ি। ওঠ। আমি দোকান খোঁজ করিয়া না পাইয়া বাড়িত আইসি।” ডাক শোনে সেলিনার ঘুম ভাঙল। নাদেরকে ডেকে দিয়ে বললেন “বাইরে কে আপনাকে বেয়াই বেয়াই ডাকছে। ওঠ। দরজা খোলে দাও। আর কত ঘুমাবেন।” মেয়েদের শশুর হলে তো সেলিনা চিনতেন। নাদের লুঙ্গি ধরে ধরে গিয়ে দরজা খোললেন। দেখেন জেসির বাবা। স্যালামাইলাইকুম বলে উভয়ে হেহ হেহ করে হেসে ওঠলেন। “আচ্ছা আচ্ছা আপনি! আমি রাতে ঘুমাই নি। সাতসকালে ঘুমাইছি” বলে নাদের দরজা না খোলার কৈফিয়ত পেশ করলেন। খাটে বসতে বসতে “না সমস্যা নেই” বললেন আহমদ। নাদের দৌড়ে গেলেন রান্না ঘরে। ফিসফিস করে বললেন “ওই লোকের মেয়েকে আমার ছেলের জন্য আনবার চাইসি, কিছু নাস্তা তৈরি কর। আমি তাঁর সঙ্গে গল্প টল্প করি।”
 
ভালোমন্দ জানাজানি করলেন একে অপরের। গল্পের ফাঁকে পারিবারিক অবস্থানও জানা হল। সেলিনা নাস্তা নিয়ে এলেন। সেলিনাকে দেখে “তিনি আমার বেয়াইন নি?” জানতে চাইলেন আহমদ। জ্বী। তিনিই আপনার একমাত্র বেয়াইন বললেন নাদের। সেলিনা কথা না বাড়িয়ে পাকঘরে চলে গেলেন। নাদের সেলিনাকে ডাকলেন “ওবায় আও, আমি দোকান যাইতাম, বেয়াইরও কামকাজ আছে। কথা দুইটুম মাতি। তানর ফুড়ি আমরা দিলে দিলাইতা সামনর মাস।” সেলিনা এলেন। চুপকরে বসে রইলেন চেয়ারে। কথা শুরু করলেন আহমদ। “আমার মেয়ে লেখা-পড়া করছে। আমি ভালা একখান ঘর খুঁজাইরাম। ভালা ঘর পাইলে কাইল উ বিয়া দেলাইমু।
 
 
আমি খুশি, আপনারার মতো মানষে আমার মতো গরিবর মেয়েরে বউ মা বানাইবার পরস্তাব করছন। আমি কুন্তা চাইতাম নায় আপনারার ইচ্ছা মতো দিবা। তবে মোহর ৫ লাখর কম ওইলে মানতাম নায়। সোনা যা ইচ্ছা তা দিবা।” একনাগাড়ে এতো কথা বললেন আহমদ। সেলিনা বা নাদের এর ভেতরে কোনো শব্দ করলেন না। নাদের বললেন “আশা করি আপনার কথা শেষ। আমরাও খুশি ওইসি। আপনে যে আমার বাড়িখান আইসন, ওখান উ লাখ শুকরিয়া। আমরারও চাওয়া পাওয়ার কুন্তা নাই। আমি মোহর ৫ লাখ উ দিমু, আর সোনা বেশ পারতাম নায় একতোলার একখান হার দিমু।” আলহামদু লিল্লাহ বলতে বলতে আহমদ ওঠে দাঁড়ালেন। “এখন যাইগি পরে কথা কইমু” বলে বেরিয়ে পড়লেন।
 
রাফি সবকিছু শোনছেন শুয়ে শুয়ে। আনন্দের কথা। আনন্দে কালো মুখ মাঝে মাঝে ফর্শা হচ্ছেও। কিন্তু ভিন্ন ভাবনাও ভাবাচ্ছে তার ভেতরটাকে। যেমন “জেসির আব্বা যদি জানেন যে আমার বয়স এতো বেশি যে বয়সে বর্তমানের কোনো পুরুষ বিয়ে করতে যায় না, তখন আমার সঙ্গে কী তার মেয়ে বিয়ে দেবেন? বা জেসি যদি জানে যে বাবার বয়সের এক পুরুষের সঙ্গে তার বিয়ে হতে যাচ্ছে তখন সে বিয়ে করতে রাজি হবে কি না। রাফি এসব-ই ভাবছেন। ভাবতে ভাবতে কার্তিক মাসের বিশ তারিখ। দুই গেরামের দশ মুরব্বি বসে বিয়ের দিন ঠিক করলেন এবং নাদের কী দেবেন তাও ঠিক হল। ২৮ ফাল্গুন বিয়ে।
 
উভয় পরিবার নিজ নিজ হাওসালা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাফি’র বারবার নরসুন্দরের ঘরে যাচ্ছে। বয়স বেশি হলে সমস্যা কীসের। এখন টেনেটুনে সাময়িক অনেক সুন্দর হওয়া যায়। জেসি এইসবে নয়। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাচ্ছেন। জীবনের শেষ ঘোরাঘুরি। আর স্বাধীনভাবে স্বজনবাড়ি যেতে পারবেন কী না সন্দেহ। ভাবতে ভাবতে আর সুন্দর হতে হতে ঘোরাঘুরির শেষ প্রান্তে এসে উপনিত হতেই ২৮ ফাল্গুন এসে হাজির।
 
সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়বার আগে বর দোয়ারে। গায়ে বিয়ের জল লেগেছে তাই রাফিকে এতো বয়সী লাগছে না। তবুও বিয়ে বাড়ির মানুষের মুখে ফিসফিস করছে একটি শব্দ বরের বয়স বেশি। কী করার। কেউ আমলে নিতে পারছে না। বিয়ের দিন বলে কথা। কোনো কথায় বর ফিরে গেলে লজ্জা হবে। কেউ আর ওই মেয়েকে নেবে না। কিন্তু জেসির বাবাকে সবস্বজন গালিগলাজ করছে মনে মনে। কী করল মানুষ হয়ে আহমদ। এই বংশে এমন কর্ম কেউ করেছে বলে জানা নেই। এমনই মাতামাতি চলছে। সাজানো খাটে বর ওঠে বসেছেন।
 
ইমাম সাহেব কাজিকে ডেকে বলছেন আপনার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করেন। নইলে আমার কাজ আমি শুরু করে দেব বলেই বিয়ের খুতবা পড়ে নিলেন। কাজিও এর ভেতরে যা করার তা করে নিলেন। সবার ভেতরে সন্ধ্যা নামার আগে কন্যা নিয়ে বেরিয়ে যাবার একটা তাড়া এসেছে। আহমদও একটু তাড়াতাড়ি করছেন কারণ বর না বেরুলে গেরামের মানুষকে টেবিলে বসাতে পারছেন না। অতঃপর ভোজনপর্ব শেষ হল। জেসিকে পালকিতে বসিয়ে দিলেন আহমদ।
 
নাদের বউ মা নিয়ে এলেন ঘরে। ওদিকে পাড়ার পুরুষ মহিলা নাদেরের বাড়িতে গিজগিজ করছে রাফি’র স্ত্রীকে একপলক দেখার জন্য। রাফি’র গেরামের ভাবি সম্পর্কের একজন জেসিকে ঘরে ওঠালেন। দেখাদেখি চলল ছোটবড়ো সবে মিলে রাত দশটা পর্যন্ত। এর জেসি রাফি’র খাটে। জীবনে নতুন পর্ব শুরু হল উভয়ের।
 
ভালোই যাচ্ছে দিনমান। জেসির আচার আচরণে সবাই মুগ্ধ। রাফিও জেসির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। সবমিলিয়ে তাদের জীবন ভালো কাটছে। এভাবে সময় গড়িয়ে বছর দু’এক গেল। অতঃপর একদিন রাফি’র বাবা রাফিকে বললেন__জেসির গলার হারটি যে কোনো ছলে দু’মাসের কথা বলে আনার জন্য। রাফি নাদেরকে জিজ্ঞেস করে এই হার দিয়ে কী করবেন বাবা? নাদের উত্তর দেয় ‘আগে হার আন তার পরে দেখবে কী করি আমার নাবালক ছেলে।’ রাফি বলে ওঠল “এসব প্যাঁচাল আমি পারব না, আপনি পারলে জেসিকে বলুন।” নাদের রেগে গিয়ে বললেন “আমি বলব, আমার মানসম্মান রাখতে চাস না, বেয়াই-বেয়াইনে শুনে কী বলবে। তারে জানে এই এলাকার বড়ধনী।”এই উত্তরে রাফি থেমে গেলেন।
 
দিন পনের যেতে না যেতে দোকানে বসে নাদের আবার রাফিকে বললেন “যে কোনো বুদ্ধি খাটিয়ে জেসির গলার হার আমার হাতে এনে দিতে হবে  নইলে তোমাকে আমি আমার ঘরে ওঠতে দেব না।” রাফি বিপাকের পড়লেন। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। “হাইর কুল রাখি না ভাইর কুল রাখি” গ্রাম্য এই প্রবাদের মতো বাবার কথা রাখবেন না স্ত্রীর মন রাখবেন। কোনটা করবেন ভাবতে ভাবতে চোয়াল বেয়ে ঘাম ঝরতে লাগল।
 
রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় গেলেন জেসি ও রাফি। রাফি কোনো কথা না বলেই উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছু সময় পরপর ক্লান্তির শ্বাস ফেলছেন। জেসি বারবার জিজ্ঞেস করে কী হয়েছে। উত্তর দেয় না রাফি। রাত গড়িয়ে দুইটে। জেসির পিড়াপিড়িতে রাফি বলতে বাধ্য হল। কিন্তু এই চার বাক্য বলতে রাফি’র কতটা কষ্ট হয়েছে সে ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না। রাফি খোদার নামে কসম করে বলছে “আমি বেঁচে থাকলে ছয় মাসের ভেতরে তোর হার তোর গলে দেখবে।” জেসি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল। জেসি চায় না সুখের সংসার ভাঙুক সামান্য এক সোনার হারে। রাত পোহালে রাফি সোনার হারটি নাদেরের হাতে তুলে দিল। ওইদিনই নাদের হারটি বিক্রি করে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করলেন। এভাবে কত শশুর বউ মাদের সোনার হার বিক্রি করে কতরকমের ঋণ পরিশোধ করছে কে জানে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *