সেয়ানা – অভিষেক সাহা

আবার বিপত্তি। এবার বেরোনোর সময়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রকি। ডোভারম্যান। একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে সিধুর দিকে। সিধু এমনিতে কুকুরে ভয় পায় না । কিন্তু আজ রকির চাহুনিটা অন্যরকম। মনে হচ্ছে আর এক পা এগোলেই কামড়ে দেবে। ওর মনের মাটিতে হালকা ভূমিকম্প অনুভব করল সিধু। 

” এই অপদার্থ অনি কোথায় গেলি তাড়াতাড়ি আয় তোর রকি দেখ কেমন করছে!” কোনও মতে গলা থেকে আওয়াজ বের করে বন্ধু অনিকে ডাকল সিধু। আজ অনির বাড়িতে দু’ঘন্টার জন্য আড্ডা দিতে এসে এই নিয়ে দু’বার বিপত্তি।ঢোকার সময় বাড়ির সামনে কলার খোসায় পা পিছলালো আর এখন ডোভারম্যান পথ আটকেছে।

” কী হয়েছে কী হয়েছে!”রকির কিছু হয়েছে ভেবে পাহাড় ডিঙিয়ে ছুটে এল অনি।

” ওই দেখ না আমায় বেরতে দিচ্ছে না !” রকিকে দেখিয়ে হতাশ হয়ে বলল সিধু।

রকির কিছু হয়নি দেখে ধাতস্থ হল অনি। পরিস্থিতি বুঝল।

” রকি চলে এস । ডোন্ট ডু দ্যাট।” রকিকে ডাকল অনি । বেশ কয়েকবার ।রকি সরল না।

” তুই কী এখান থেকে কিছু নিয়েছিস?” সিধুকে জিজ্ঞেস করল অনি।

“দূর ব্যাটা , আমি কী চোর ! তোর রকির মাথা খারাপ হয়ে গেছে।” বিরক্ত হয়ে বলল সিধু।

রকি কী বুঝল ওই জানে, দু’বার জোরে ঘেউ ঘেউ করল।

“আচ্ছা দেখছি রাগ করে না।” ভয় পেয়ে সিধু নিজের জামা-প্যান্টের পকেট খুঁজতে লাগল।জামার বুক পকেটে হাত দিয়ে বুঝতে পারল একটা লাইটার ভুল করে পকেটে ঢুকে গেছে। রকির দিকে তাকিয়েই পকেট থেকে লাইটারটা বের করে টেবিলের উপর রাখল ও। তবু রকি সরল না।

” আরে সিধু আমার লাইটার লাল রঙের। এটাতো সবুজ।”অনি বলল।

সিধু দেখল । তারপর পকেট থেকে লাল রঙের লাইটার বের করে সবুজটা পকেটে রাখল। রকি দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ালো।

” তুই যা কোনও ভয় নেই ।” অনি আশ্বস্ত করল ।

” তোর রকি কিন্তু হেব্বি সেয়ানা।” দরজার দিকে স্লো মোশনে এগিয়ে গিয়ে সিধু বলল।

রকি দরজা থেকে সরে গেলেও ওর উপর থেকে চোখ সরাল না। রকির চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে সিধুর মনে হল রকি যেন বলছে  “বুঝেছ বাপু,  তুমি যদি সেয়ানা হও আমি তবে ডাবল  সেয়ানা !”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *