মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি — পঞ্চাশ উমর জীবনে পদার্পণের কৃতজ্ঞতা — মানিক বৈরাগী

sahityakaal.com
আমি চিরকালই প্রেম প্রকৃতি গণমানুষের পক্ষে কথা বলেছি, লড়াই করছি যখন যে অবস্থায় থাকি ও পারি।প্রকৃতির অপরূপ বাংলাদেশের প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার পক্ষে লড়াই করছি,লিখছি।
অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের লড়াই এ সমিল হতে চাই ও থাকি।
সাম্য মৈত্রী সৌহার্দ এ মুলমন্ত্র কে করেছি জীবনের ব্রত।এভাবেই কৈশোর থেকে গতকাল পর্যন্ত যখন যেভাবেই থাকিনা কেন সাহিত্য সংস্কৃতি, প্রকৃতি সর্বোপরি সাম্য মৈত্রী সৌহার্দ প্রগতির পক্ষে ছিলাম আছি থাকবো।
আমার এ চাওয়া পবিত্র বলেই সৎ ন্যায়নিষ্ঠ থেকে লালন শাঁই’র “‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”তাই আমৃত্যু মানুষের ভজন করতে চাই।তাই গতকাল ও মানুষ আমাকে আবারও প্রণোদনা দিয়েছে জন্মদিনে।
৪৯তম জন্মদিনে প্রবেশ করেছি ৫০এ। জন্মদিন মানুষের অনেকটা ব্যক্তিগত ভাবে ঈদ, দুর্গাপূজা, বড়দিনের উৎসবের মতো মনে হয় একান্ত আমার কাছে।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি অতি ক্ষুদ্র নালায়েক মানুষ জীব।তারপর ও এ দিনে আমার একান্ত সুহৃদ, রাজনৈতিক সচল সময়ের সতির্থ, চলমান সময়ের রাজনৈতিক সতির্থ,সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের সুহৃদ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংগঠক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ব্যক্তিগত ভাবে, মুটোফোনে, আমাকে ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিবছর এভাবেই আমার সুহৃদ জনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে আড়ম্বরপূর্ণ কিছু হতো না।
এবার বিজয় মুখ সংগঠনের মুখ্য সংগঠক অজয় মজুমদার ও কক্সবাজার তবলা ইনস্টিটিউট এর তিলক কর অনেক দিন পর বাসায় আমাকে দেখতে আসে।আমি খুব খুশি হই তাতে কারণ অজয় আসার সময় তিলক কে সাথে নিয়ে আসার জন্য।
এরও এক সপ্তাহ পূর্বে শ্রুতি আবৃত্তি অঙ্গনের সৌরভ দেব,অর্জন, আমার সাবেক শালা বাবু উচিং ট্যাং মিলে আমাকে দেখতে এসছিলো।
২৭তারিখ সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর মুখ্য সংগঠকদ্বয় খোরশেদ ভাই ও মনির মোবারক চাপাতা,দুধ, চিনি সহ অনেক কিছু নিয়ে আমাকে রাতে দেখতে আসে।সত্যেন সেন এর কার্যক্রম ও অন্যান্য বিষয় আসয় এর আলাপ কালে অজয় মজুমদারের ফেবু পোস্ট ধরে জন্মদিনের কথা প্রসঙ্গায়িত হয়।
তো আমি প্রত্যেক শুভাকাঙ্ক্ষী কে বলেছি এসব তোমাদের বিষয় তোমাদের প্রত্যেকের যার যা মনেচায় তা তোমাদের বিষয়।
কবির ভান্ডার শরিফে চিরায়ত রং চা বেলা বিস্কুট তো আছেই।এতে সকলেই খুশি।
তো গতকাল দুপুর থেকে প্রথমে আমার টিউটোরিয়াল সেন্টার এর শিশু কিশোরেরা প্রথমেই আমার সাথে তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করে।
এরপর থেকে কেউ কেউ ব্যক্তিগত ভাবে আমার বন্ধু স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, কবি বন্ধুরা আসতে থাকে, শুভেচ্ছা বিনিময় হয়, হয় ছবি তোলা পর্ব।
প্রথমে সাংগঠনিক ভাবে আসে বিজয় মুখ সংগঠনের অজয় মজুমদার ও আনিকার নেতৃত্বে শিল্পী বৃন্দ।অজয়ের একটি আবদার জন্মদিনের কেক কাটার পূর্বে তাদের সংগঠনের শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা যেনো সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলাপ করি।তো আমি তাদের আব্দার রক্ষা করে সাংস্কৃতিক সংগঠন কি কেন এ নিয়ে কয়েক কথা বলতে বলতেই সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সংস্কৃতি কর্মীরা মনির মোবারক এর নেতৃত্বে হাজির
আমি তাদের বল্লাম তোমরাও যে ভাবে পারো বসে যাও।কথা গুলো এক সাথে শুনো।না হয় আবারও আমার বলতে হবে। তারাও বসে পড়লো অন্তত দশ বিষ মিনিটের জন্য।
প্রত্যেকেই তাদের স্ব সংগঠনের স্ব সংগঠনের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে চায় বলে আমি বিজয় মুখ কে বল্লাম তোমদের আয়োজন যেহেতু বড়ো ও প্রথম সরব উদ্যোগ তোমাদের, প্রথমে সত্যেন সেনের আনুষ্টানিকতা সেরে নিক।তারা ফুলেল শুভেচছা বিনিময় ও ফটোসেশান সমাপ্তির পর শাহীন তাদের নিয়ে আলাদা আপ্যায়ন করলো।
আবার বিজয় মুখ, তাদের জন্য অসমাপ্ত বয়ান শেষ করে তাদের আনা কেক, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ও ফটোসেশান সমাপ্ত হতে হতে আসে আজিজ এর নেতৃত্বে আর একটি দল।
এর মধ্যেই অজয়ের ফোন আসে তার বাণিজ্যিক কাজের। সে দ্রুত চলে যা কিছুই না খেয়ে বেচারা। বিজয় মুখ আমাকে চমকে দিয়ে একটি উপহার দেয় আমাকে। আমার বর্তমান শুভ্রশ্বশ্রূর একটা সাদাকালো ফটোগ্রাফ বাধাই করে আনে।
এসব শেষ হতে না হতেই আজিজ এর নেতৃত্বে তার দল। তাদের সাথে ফুলেল শুভেচছা বিনিময় ও ফটোসেশান এর এক পর্যায়ে কবিতা পাঠক ও নাট্যশিল্পী জোসনা রহমান এক প্যাকেট সিগারেটের বিনিময়ে তাঁকে ভালোবাসার চুম্বন একে দিতে আমার মুখ আগাই দি।
তাদের ও শাহীন বরাবরের মতো আপ্যায়ন অবস্থায় আসে আহমদ ছফা চর্চা পর্ষদ এর কবি শান্তনু মুনির ও পলাশ।মুনির আমার প্রিয় ভাগিনা।
তাদের উপস্থিতিতেই আসে খেলাঘর আসর এর রিদুয়ান আলী ও শ্রুতি আবৃত্তি অঙ্গনের সৌরভ দেব ফয়সাল শাকিব সহ অনেকেই। একি সাথে সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ রিয়াদ।
রিদুয়ান আলী কিছুটা অসুস্থ, সৌরভের কাজে সবসময় একটা ব্যতিক্রম শীলতা থাকেই।তাও তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে না করতে আসে কক্সবাজার কলেজের দিনূর আলম ও সবুজের নেতৃত্বে সদ্যবিদায়ী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এভাবেই বেজে যায় রাত একটা।
সারাদিনের অনুষ্ঠানে কেউ কেউ খালি গলায় গান গেয়ে শুনিয়েছ,খালি গলায় গেয়েছে কোরাস, কেউ কবিতা আবৃত্তি ও পাঠ করে ঘর ও মন মাতোয়ারা ছিলো।
মানুষের এ ভালোবাসার ঋণ কখনোই শোধ করা যাবেনা। অনেকেই নিজেদের চা নিজেরা বানিয়ে খেয়েছে, অনেকেই আগের দিন চা-পাতা দুধ চিনি পাঠিয়ে দিয়েছে, কেউ কেউ নিজেদের খাবার নিজেরা এনে আমাকে নিয়ে খেয়েছে।
আবার কেউ কেউ আমার জন্য সিগারেট ও নিয়ে এসেছে। মুনির মামা ও পলাশ পকেটে টাকা গুজে দিয়ে বল্লো কাল পরশু আপনার প্রথম সপ্তাহের ঔষধ ফুরিয়ে যাবে। অবশ্য কবি মোশতাক আহমদ এর কিনে দেয়া ঔষধ শেষ হবার পথে।
তো মানুষ ভজলে মানুষ পাবি।যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাতিয়ে রেখেছে এখনো পর্যন্ত, যারা ব্যক্তিগত ফোন করেছে, মেসেঞ্জারে চিরকুট পাঠিয়েছে, খেলাঘরের জসিম ও বাণিজ্য মেলা কমিটির অনুজ ভাইয়েরা মিলে রুটি মেকার পাঠিয়ে শুভেচ্ছায় আবদ্ধ করেছে। সবার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা অশেষ ভালোবাসা অফুরান। একজন না খান্দা নালায়েক কবিতা কর্মীর জীবনে এর অধিক ভালোবাসা চাইনা। যদি আরো পাই আমি হয়তো নষ্ট জলে পড়ে জ্বলে ও যেতে পারি।
হে মানুষ তোমাদের এ ভালোবাসা প্রেমের ঋণ শোধ হবার নয়।জয় হোক মানুষের পরাভূত হোক ধর্মীয় মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, হিংসা বিভেদ, শোষণ। আসুন কবিতার মতো সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।মানুষে মানুষে গড়ে তুলি সাম্য মৈত্রী সৌহার্দ। জয় হোক মানুষের জয় হোক প্রকৃতির।
২৯জানুয়ারি ২০২০
১৫মাঘ১৪২৬
লেখক
কবি ও নব্বুইয়ের নির্যাতিত প্রগতিশীল ছাত্রনেতা
কক্সবাজার, বাংলাদেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *