বরাহ গ্রহের আলো // ৬ // সুব্রত মজুমদার

বরাহ গ্রহের আলো // ৬ // সুব্রত মজুমদার

 ইয়েস ক্যাপ্টেন ! ” বলে সবাই গোটা হলঘরটার চিরুনিতল্লাসিতে লেগে গেল। ঘরের এক একটা অংশ হাত দিয়ে ঠুকে ঘষে দেখতে লাগল। যেখানে কিকি পড়েছিল তার একটু দূরেই যোগিন্দর দেখল একটা ধাতব কিছু মেঝে হতে বেরিয়ে আছে। যোগিন্দর জিনিসটাকে ধরে প্রাণপণে টান লাগাল।

একটা অদ্ভুত আকারের চাবি বেরিয়ে এল। চাবিটা নিয়ে শঙ্করের কাছে ছুটে এল যোগিন্দর, হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “এইটা দেখুন ক্যাপ্টেন..”

শঙ্কর মন দিয়ে দেখল চাবিটা। ” এ তো চাবি বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু এ চাবি নিয়ে কি করব ?”

“তালাটা খুঁজে বের করতে হবে ক্যাপ্টেন।” এমার চটজলদি জবাব। .

হঠাৎ হেনরির আর্তনাদ কানে এল। হেনরির মাথা ঠুকে গিয়েছে ঘরের স্বচ্ছ দেওয়ালে। কোনোক্রমে সামলে উঠেই হেনরি দেখল দেওয়ালের যেখানটায় তার মাথা ঠুকে গিয়েছিল সেখানকার একটা ব্লক ভেতরদিকে ঢুকে গেছে।.

হেনরির আবারো অবাক হবার পালা, – যেখানে  ব্লকটা দেওয়ালের ভেতরে ঢুকে গেছে ঠিক তার পাশেই একটা স্বচ্ছ স্ফটিকের ট্রে বেরিয়ে এল ঘরঘর শব্দ করে। হেনরির আর্তনাদ আর ঘরঘর আওয়াজ শুনে সবাই  হেনরির কাছে এসে হাজির হল। .

স্ফটিকের ট্রের উপরে তিনটে ‘ক্রিস্টাল স্কাল’ অর্থাৎ স্ফটিক নির্মিত নর করোটি। তিনটের রং তিনরকম, – লাল, সাদা আর হলুদ।

শঙ্কর অনেকক্ষণ ভেবে বলল, “যোগিনদর, তোমার হাতে চাবিটা কিসের তৈরি ?” .

যোগিনদর বলল, “লোহা ক্যাপ্টেন !”

শঙ্কর মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগল, “লোহা। পর্যায় ৪ এবং শ্রেনী ৮,অ্যাটমিক নাম্বার ২৬। তাহলে ২৬=(৭×৩)+৫ ।”         এরপর হেনরির দিকে তাকিয়ে বলল, “আচ্ছা হেনরি সূর্যের বর্ণমণ্ডলের পাঁচ নম্বর বর্ণটা কি বলতো। ” .

হেনরি বলল, “বর্ণমণ্ডলে বর্ণ বা রং সাতটি, – বেগুনি, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল। তাহলে পঞ্চম বর্ণ হলুদ।”

শঙ্কর হলুদ স্কালটার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, “আমি যদি খুব ভুল না করি তাহলে হলুদ করোটিটাই তুলে নিতে হবে। ”  

.

এই বলে শঙ্কর হলুদ করোটিটা তুলে নিল। হলুদ করোটিটা তুলে নিতেই ট্রেটা আবার ঘরঘর শব্দ করে ঢুকে গেল। পাশের অংশ হতে একটা করোটির আকারের গহ্বর তৈরি হল।.

শঙ্কর হলুদ করোটিটা নিয়ে গহ্বরে সেট করে দিল, আর তৎক্ষণাৎ উল্টোদিকের দেওয়ালে একটা ‘ডিএনএ’ এর ‘ডবল-হেলিক্স’ বা প্যাঁচানো সিঁড়ির হলোগ্রাম ভেঁসে উঠল।

শঙ্কর বলল, “এটা এমার সাবজেক্ট। এমা তুমি দেখ এর সমাধান করতে পার কি না।” .

এমা  হলোগ্রামটা পর্যবেক্ষণ করতে থাকল একমনে। তারপর হঠাৎ লাফিয়ে উঠল। “হুররে পেয়ে গেছি !”

রিও অনুসন্ধিৎসু গলায় বলল, “কি পেলে এমা !”

এমা রিওর ঠোঁটে এমন চুমু দিল শঙ্কর উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে আত্মসন্মান বাঁচানোর একটা বৃথা চেষ্টা করল। এরপর এমা আদুরে গলায় রিওকে বলল,” বলছি মাই ডিয়ার বলছি।.

আসলে হয়েছে কি যিনি এই হলোগ্রাম তৈরি করেছেন তিনি ভুল করে মইয়ের দুটো স্টেপ দিতে ভুলে গেছেন। আমরা যদি এই দুটো স্টেপস সঠিক জায়গায় লাগিয়ে দিতে পারি তাহলেই কেল্লা ফতে।” .

এমা তার তর্জনি হলোগ্রামের সেই প্রথম অসম্পূর্ণ অংশের কাছে নিয়ে গেল আর তৎক্ষণাৎ সেখানে একটা স্টেপ ফুটে উঠল। একইভাবে দ্বিতীয় স্টেপটাকেও সম্পূর্ণ করল এমা। হলোগ্রামটি সম্পূর্ণ হতেই ঘরের একটা দেওয়াল হতে ঘরঘর শব্দে একটা ব্লক বেরিয়ে এল, আর সেই ব্লকের উপরে কিছুক্ষণ আগে পাওয়া চাবিটার সদৃশ একটা খাঁজ। যোগিন্দর সেই খাঁজের উপর চাবিটি রাখল, খাঁজের চাবিটা একদম ফিট হয়ে গেল।.
আর সঙ্গে সঙ্গে ঘর হতে বেরোবার একটা প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেল।  প্রবেশদ্বার দিয়ে সকলে ঢুকলো একটা লম্বা আয়তাকার কক্ষের ভিতর। কক্ষটির ভেতরটা ফাঁকা নয়। কক্ষের  একদম শেষের দিকে একটা ধাতব টেবিলের উপর একটা আধখোলা বই রাখা আছে।

বইটির পাশে একটা ল্যাম্পজাতীয় জিনিস হতে মৃদু অথচ তীক্ষ্ণ আলো নির্গত হচ্ছে। ল্যাম্পটার ভেতরে কোন ক্রিস্টাল জাতীয় পদার্থ হতে আলোটা নির্গত হচ্ছে। টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন একজন পক্ককেশ বৃদ্ধ।.

.

… চলবে

.

.

.

.

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *