বরাহ গ্রহের আলো // ৪ // সুব্রত মজুমদার

বরাহ গ্রহের আলো // ৪ // সুব্রত মজুমদার

রিও ল্যাপটপের মনিটারে চোখ রেখেই বলল,” ডান ইট ! “

এবার শঙ্কর শুরু করল, “আমার নিশ্চিত ধারণা খনার সিস্টেম কোডিংয়ে কেউ বাগ ইনজেক্ট করেছে।”

.

.

রিও প্রতিবাদ করে উঠল, “অসম্ভব, এ হতেই পারে না। খনার সিস্টেম কোডিংয়ে একমাত্র অথরাইজ প্রোগ্রামার ছাড়া কেউই ছেড়ছাড় করতে পারে না। আর বাইরে হতে ইনজেক্ট করা বাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন দশমিনিটের বেশী টিকতে পারবে না। যেমন এখন আমি যেটা করেছি। “

.

.

শঙ্করকে বিচলিত দেখাল। হেনরি জ্যাকেটের পকেট হতে একটা ছোট্ট ডিভাইস বের করে শঙ্করের হাতে দিয়ে বলল,” এই ডিভাইসটা অন করে রেখে দিলেই দুইশ’ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে একটা শিল্ড তৈরি হবে, একটা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ঝড়ে বাইরের যেকোনো ওয়েভকে ভেতরে ঢোকার আগেই  রিফ্লেক্ট করে দেবে।”

.

.

রিওর চোখ কপালে উঠে গেল, “করেছ কি ! তুমি জানোনা যে এধরনের ডিভাইস অনুমতি ছাড়া  সঙ্গে নিয়ে ঘোরা বেআইনি। তোমার পানিশমেন্ট হতে পারে। “

হেনরি বলল,” জানি। আর সেজন্যই লুকিয়ে রেখেছি। আজকের এই সমস্যায় আমার ডিভাইসটাই তুরুপের তাস হতে পারে। তবে সবকিছুই ক্যাপ্টেনের উপর নির্ভর করছে।”

.

.

শঙ্কর হেনরিকে বলল,” ডিভাইসটা কিকির সঙ্গে জুড়ে দাও।ইমিডিয়েটলি ! ”  এরপর রিওর দিকে তাকিয়ে বলল,” আর রিও, তোমার কাজ হল একটা কম্যাণ্ড বানানো, যাতে কিকির মাধ্যমে খুব সহজেই আমরা ডিভাইসটা অ্যাকসেস করতে পারি। তবে সব কাজ  জলদি করতে হবে, – অর্থাৎ খনার চোখ এড়িয়ে।”

হেনরি আর রিও কাজে লেগে গেল। তাদের কাজ শেষ হল রিওর অ্যাক্টিভেট করা বাগের  ডি-বাগ হওয়ার আগেই।

.

.

          আজ রোভারটা এসে থামল একটা জলাশয়ের কাছে। জলাশয়ের অপরপাশে গাছের মতো দেখতে অসংখ্য বস্তু। ওগুলো কি আমাদের অতিপরিচিত গাছেদের কোন তুতো ভাই, – নাকি প্রকৃতির কোন খেয়ালি সংরচনা ? জলাশয়ের এপাড়েও দু’একটা ওই জাতীয় জিনিস রয়েছে। এমা তার টুলব্যাগ বের করল। একটা নমুনা নিয়ে তার কাটা ছেঁড়া বিশ্লেষণ চালাল।

.

.

শঙ্কর এমার কাছে যেতেই এমা জানাল, “এগুলো জীবন্ত ক্যাপ্টেন।  এরা অনেকটা আমাদের পৃথিবীর গাছপালার মতো। তবে পার্থক্য একটাই এরা খাদ্য তৈরি করে না। এদের শরীরে অনেক সোলার সেল আছে, যার সাহায্যে এরা সরাসরি সূর্যালোক হতে শক্তি উৎপাদন করে।”

.

.

শঙ্কর কিছু বলতে যাচ্ছিল এমনসময় যোগিন্দর শঙ্করের কাছে দৌড়তে দৌড়তে এল। যোগিন্দরের হাতে কতগুলো অদ্ভুত ধরনের জীব। কাঠামোটা অনেকটা মাছের মতো, কিন্তু কোনো ফুলকা নেই। মাথার সামনে অনেকগুলি পুঞ্জাক্ষি। দেহের দু’পাশ জুড়ে বিশেষ ধরনের পাখনা।

.

.

যোগিন্দর জীবগুলোকে এমাকে দিয়ে বলল, ” জলে সাঁতার কাটছিল, খুব কষ্টে ধরেছি।”

এমা জীবগুলোকে একটা জলভর্তি স্যাম্পল বক্সে ভরে নিল। তারপর শঙ্করের দিকে একটা মাদকতা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “লেটস এনজয় ! একটা পার্টি হয়ে যাক। নাচ গান আর ফূর্তি।”

.

.

শঙ্কর উঠে দাঁড়াল। তার মুখের উপর রোদ এসে পড়েছে। এই গ্রহে রোদ খুব তীব্র হয় না। তবে এখানকার রোদ সোলার সেলের পক্ষে অত্যন্ত ভালো। এখানকার গাছেরা সোলার সেলের সাহায্যে  ফোটন কণা দিয়ে একটা জটিল যৌগ তৈরি করে যার উপাদান হিসাবে পরিবেশ হতে আহরিত জল আর বাতাসের নাইট্রোজেন থাকে।

.

.

   রোভারে চেপে বসল সবাই। রোভার চলতে লাগল। কয়েক কিলোমিটার চলার পর আবহাওয়া পাল্টাতে লাগল। তাপমাত্রা ক্রমশ কমে আসছে, চারদিকে বাড়ছে বরফের পরিমাণ। একসময় রোভার বরফে আটকে গেল। হেনরি রোভার হতে নেমে বরফের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে লাগল। কিকি তাকে এই কাজে সাহায্য করতে লাগল।

.

.

হেনরি বরফের স্তুপের আড়াল হতে চেঁচিয়ে বলল, ” ক্যাপ্টেন, এখানকার বরফ নির্ভেজাল বরফ নয়।”

শঙ্কর অবাক হয়ে বলল, “নির্ভেজাল নয় মানে…”

হেনরি বলল, “শতকরা সত্তরভাগ মতো নাইট্রোজেন আছে বরফে। আর এজন্যই এই বরফের এত শীতলতা।”

.

.

কিকি তার চোখের দূরবীক্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। হঠাৎ কিকি  বলে ওঠে,” সাসপিশাস ! সাসপিশাস ! সাসপিশাস এলিমেন্ট ফাউন্ড ।”

.

.

.

.

…. চলবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *