চাঁদা – শম্পা সাহা

 “আহারে !অমন তরতাজা জলজ্যান্ত লোকটা ঝট করে মরে গেল সত্যি ভাবা যায়! “হঠাৎ মারা গেছেন সতীনাথ বাবু মাত্র  চৌষট্টি বছর বয়সে। মাত্র কারন চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই । দশাসই চেহারা খেতেও পারবেন এক থালা ভাত , আট দশ পিস  খাসির মাংস একবারেই একটুও ঢেকুর না তুলে । হাঁটাচলা এক্কেবারে দাপটের সঙ্গে। ছেলের সঙ্গে কোন পার্থক্য নেই । কখনো কখনো ছেলের চেয়েও বেশি সমর্থ। 

   “ও দিদি ,শুনছি নাকি হার্টের অসুখ ছিল !হার্ট ব্লক না কি হয়েছিল ?”উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনেরা কানাঘুষো করে। সদ্য বিধবা স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন আবার নিজেই এদিক ওদিক তাকিয়ে লোকের প্রতিক্রিয়া দেখে উঠে বসছেন।কেউ একজন অসুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করাতে বললেন, “না ,না ,ওসব কিছু ছিল না গো এক্কেবারে জলজ্যান্ত সুস্থ মানুষ টা”, সতীনাথ গিন্নি  কেঁদে গড়িয়ে পড়লেন।

   এক ফাঁকে উঠে চুপিচুপি ভাইয়ের মেয়ের হাতে একটা ব্যাগ পাঠিয়ে দিলেন ভাইয়ের বাড়ি। খুললে দেখা যেত তাতে হাজার তিরিশেক এর কড়কড়ে পাঁচশ টাকার নোট । ব্যাগটা দিয়ে আবার এসে লুটিয়ে পড়লেন মৃত স্বামীর দেহের ওপর, “ওগো আমায় পথে বসিয়ে গেলে গো! কি করে তোমার  শ্রাদ্ধ শান্তি করবো? ঠিক করে তোমার মুখে আগুন দেওয়ার ও উপায় নেই আমার, আমাকে যে তুমি সর্বস্বান্ত করে গেলে গো! “

   লোকজন বলছে, “সত্যিই তো ,এই কি মরার বয়স যে সব গুছিয়ে রেখে যাবে! “পাড়ার লোক দাহ করার জন্য চাঁদা তুলতে লাগলো । 

(চোখের সামনে দেখা ঘটনা অবলম্বনে )

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *