একটা মুহূর্ত । লেখা – প্রিয়নীল পাল।

একটা মুহূর্ত । লেখা - প্রিয়নীল পাল।

তাড়াতাড়ি হাটরে দেখ আকাশে চরম মেঘ বৃষ্টি এলো বলে

আরে হ্যাঁ হাটছি তো এবার দৌড়াবো নাকি?

নে ব্যাগ গুলো ধর।

ট্যাক্সি ট্যাক্সি! গড়িয়া যাবে?

.

না না যাবো না।

আরে একটিও ট্যাক্সি যেতে চাইছে না যে ধুর!!

আরে চল এই ব্রিজ টা পেরিয়ে নিচে যায় ওখান থেকে পেয়ে যাবো কিছু।

.

ধুর অনেকটা হাঁটা দিতে হবে তো তাহলে!

আরে তাহলে তুই কি রে একটা ক্যাব বুক কর না!

আরে ফোনে চার্জ নেই তো, ফোন টা অফ হয়ে গিয়েছে। উফ অরিন্দম তুই না!

.

কি করি বল এরকম খারাপ ওয়েদির হবে আমি কি জানতাম?

চল তাহলে হাঁটা দি।

একটু একটু করে হাঁটা শুরু হলো। জোরে হাওয়া দিচ্ছে, এক ফোটা দু ফোটা বৃষ্টি এক দুবার গায়ে লাগছে।

.

রাস্তার বা-দিকে একটা শপিং মল আছে সেখানে পাপিয়া কিছু কিনবে তাই সটান চলে গেলো এদিকে ওয়েদার খারাপ হচ্ছে সেই চিন্তায় নেই পাপিয়ার।

এরই মধ্যে অরিন্দম তারা দিচ্ছে কি রে হলো?

.

 দেখ এবার জোরে বৃষ্টি নামলে আর বাড়ি ফিরতে হবে না। তুই সেই তিন ঘণ্টা থেকে এই দোকান ওই দোকান করছিস সত্যিই!

পাপিয়া বলে ওঠে তোর সবসময়ই এরকম! মাসে তো একদিন আনিস। আমার কত কিছু কেনার থাকে সঙ্গে তোর গুলোও আমিই কিনি মনে থাকে না বুঝি!!

.

অরিন্দম আবার চিৎকার করে বলে বুঝে কর!

আমায় আর কিছু বলিস না বাড়ি ফিরতে দেরি হলে, যে বাবা এই বলছিল ওই বলছিল।

পাপিয়ার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো অরিন্দমের কাছে বকা খেয়ে। যায় হোক গোমরা মুখে সে নিজের কেনাকাটা তাড়াতাড়ি সেরে মল থেকে বেরোয়।

.

দুজন একটু একটু করে হাঁটতে থাকে। এরই মধ্যে বৃষ্টি নেমে যায় জোরে। ওরা একটা সেডের নিচে দাড়ায়।

দেখলি তো বলেছিলাম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে যেতে পারবি না তুই সেই দেরি করেই যাবি করেই যাবি ।

.

এর মধ্যেই একটা ট্যাক্সি পেয়ে যায় তারা সেখান থেকে ওরা চেপে যায়।

দাদা গড়িয়া। একটু তাড়াতাড়ি যাবেন।

অরিন্দম পাপিয়া পাশাপাশি, তবে পাপিয়া কোনো কথা বলছে না চুপ করে বসে আছে। অরিন্দম বিষয় টা দেখলো বুঝতে পারলো বেশি বোকে ফেলছে। সত্যিই তো!

.

ও তো শুধু নিজের জন্য দেরি করে নি আমার সব কিছুই তো ওই কিনে দেই। রাস্তা ক্রমশ যাচ্ছে এর মধ্যেই অরিন্দম ট্যাক্সিটা দাঁড় করাতে বলে। দাদা একটু দাঁড়াবেন তো!

.

পাপিয়া জিজ্ঞাসা করে কি রে কি হলো? কোথায় যাবি দাঁড় করালি কেনো?

না কিছু না একটু দরকার আছে এই বলে ছাতা নিয়ে সে দরজা খুলে বেরোয়। তারপর কিছুটা গিয়ে আবার ফিরে আসে।

এই বেরো!

 কেনো?

.

আরে বেরো না।

অরিন্দম আর পাপিয়া একটা ছাতা নিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে রাস্তার এক পাশে দাড়ায়। তারপরে অরিন্দম পাপিয়াকে তার দিকে তাকাতে বলে।

আরে এই সব কি পাগলামি হচ্ছে? এই বৃষ্টির মধ্যে! তোর কি কাজ আছে বলো তো!

.

এই করতে করতেই মাথার উপর ছাতাটা অরিন্দম সরিয়ে দেই।

আরে আরে এ কি ভিজে যাচ্ছি তো! পাগল নাকি?

হ্যাঁ আমি পাগল তুই যতবার রেগে যাস অভিমান করিস ততবার আমি পাগল হয়ে পাগলামি করে তোর অভিমান ভাঙতে চাই।

আরে আমি রাগ করিনি রে! তুই না সত্যি।

.

অরিন্দম এক মুখ হাসি আর ভিজে চোখ নিয়ে বলে তুই আমার কাছে একটা পাগলামিই তো হোলি এই বৃষ্টি আমি আজ তোকে দিলাম। শহরের এই বৃষ্টি তোর জন্য।

.

বেশ বেশ অনেক বললি এবার চল ফিরি নাহলে দেরি তো হবেই আর তোর ঠান্ডা লেগে যাবে।

তোর না ঠান্ডা লাগার ধাত!

আচ্ছা বেশ বেশ একটু হেসে দে আগে!

.

চল চল অনেক করলি।

সেদিন পাপিয়ার খুশির চোখের জলটা বৃষ্টির সাথে মিশে গিয়েছিল কিন্তু এই ভালো লাগার মুহূর্তটা সারাজীবন মনের কোণে ভালোবাসা নিয়ে থেকেই যাবে।

ভালোবাসা এরকম মুহূর্তেই চিরজীবিত থাকে।

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *